
শিমলা, ৯ সেপ্টেম্বর ( হি.স.): অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বর্ষার মরশুমে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে হিমাচল প্রদেশে, এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর । বুধবার আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ , বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম । ৩০ জুন রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করেছিল যা সক্রিয় থাকতে পারে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত।
বুধবার প্রাপ্ত জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লাহুল-স্পীতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৯৯ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। উনায় ৩১ শতাংশ এবং কুল্লুতে ২২ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরমৌরে বর্ষার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি; সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কিন্নৌরে ৭৩ শতাংশ, হামিরপুরে ২৩ শতাংশ, মান্ডিতে ২১ শতাংশ, শিমলায় ১০ শতাংশ এবং কাংড়ায় ৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোলাণে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে রাজ্যের চারটি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং আটটি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বর্ষার প্রকোপ কিছুটা দুর্বল থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের উচ্চ পাহাড়ি এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে। রবিবার থেকে ফের সক্রিয় হতে পারে বর্ষা। ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত ধসের কারণে রাজ্যের ৭০টি সড়ক বন্ধ ছিল। এর পাশাপাশি ১৯টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার এবং দুটি পানীয় জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মান্ডিতে ৩৭টি, কুল্লুতে ১১টি এবং কাংড়ায় ১০টি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। চলতি বর্ষার মরশুমে বৃষ্টিজনিত নানা দুর্ঘটনায় রাজ্যে এ পর্যন্ত ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১০ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ১৭১ জনের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায় এবং ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ধস ও বন্যার মতো ঘটনায়। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে আনুমানিক ১,৫৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক