দুর্গাপুর, ৩ এপ্রিল (হি. স.) : সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যে চাকরি হারালেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও দুর্গাপুরও এই রায়ের বাইরে নয়। একাধিক স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা বরখাস্ত হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পড়ুয়ারা ও দিশেহারা প্রধান শিক্ষকরা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় মোট ৩৪৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। দুর্গাপুরের বেশ কিছু স্কুলে এই বরখাস্তের কারণে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে।
নেপালি পাড়া হিন্দি হাই স্কুল: ৮ জন
জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়: ৪ জন
বেনাচিতি হাই স্কুল: ৪ জন
সগড়ভাঙ্গা হাই স্কুল: ৩ জন
ভিড়িঙ্গী টিএন স্কুল: ২ জন
দুর্গাপুর প্রজেক্ট টাউনশিপ গার্লস স্কুল: ৩ জন
দুর্গাপুর গার্লস হাই স্কুল: ৫ জন
দুর্গাপুর রাধারানী দেবী গার্লস হাই স্কুল: ৩ জন
নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. কলিমুল হক বলেন, “আমাদের স্কুলে ৪,২০০ পড়ুয়া। আগে ৩৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। ৮ জন বাদ যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হলো। এখন কীভাবে স্কুল চালাবো, বুঝতে পারছি না। শিক্ষা দফতরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।”
চাকরি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষিকা সুনিমা মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমরা কী ভুল করেছিলাম? সমস্ত যাচাইয়ের পর আমাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আজ আমাদের চাকরি বাতিল হলো। আমরা এখন কী করবো?”
জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হক বলেন, “আমাদের স্কুলে ১,০০৭ জন পড়ুয়া। আগে ১৮ জন শিক্ষক ছিলেন। এখন আরও ৪ জন কমে যাবে। এতে বিশেষ করে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনায় গুরুতর সমস্যা হবে।”
কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি কিনেছেন এবং যারা টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রি করেছেন, তাঁদের কোনও ক্ষমা নেই। তাঁদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। তবে যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির শিকার হয়ে চাকরি হারালেন, তাঁদের পুনর্বহালের দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। কারণ, গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রমাণ বারবার উঠে এসেছে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা