
বারুইপুর, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : বারুইপুর পুরসভা এলাকায় নকল ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় পুলিশি তদন্তের নতুন মোড়। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর বিকাশ দত্ত ও আশিস দেব রায়কে সোমবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে নিয়ে আসেন তাঁরা। ধৃত কাউন্সিলরদের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং বিজেপির চক্রান্তের জেরেই তাঁদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বারুইপুর পুরসভা এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নকল ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার চক্র ফাঁস হয়। বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করে এবং প্রথমে তিন জন চিকিৎসককে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে প্রাপ্ত সূত্র ধরে পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও স্থানীয় তৃণমূল কর্মীর নাম সামনে আসে। তদন্তে গতি এনে রবিবার পুলিশ বারুইপুর পুরসভার দুই কাউন্সিলর বিকাশ দত্ত ও আশিস দেব রায়ের পাশাপাশি আরও এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে।
সোমবার ধৃত দুই কাউন্সিলরকে আদালত চত্বরে আনার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিকাশ দত্ত সম্পূর্ণ ঘটনার নেপথ্যে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে বলেন, “বিজেপির বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী আমাদের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। আমরা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যে অভিযোগ তুলে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই যুক্ত নই। পুলিশ প্রশাসন যদি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত পরিচালনা করে, তবে খুব শীঘ্রই বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্র সর্বসমক্ষে ফাঁস হয়ে যাবে।”
তবে ধৃতদের এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী। তিনি পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “জালিয়াতি ও অনৈতিক উপায়ে টাকা উপার্জনের অভিযোগে এই পুর-প্রতিনিধিরা অভিযুক্ত হয়েছেন। এখন আইনি জালে ধরা পড়ে গিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে বিজেপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল রাজনৈতিক নীতি ‘না খাব, না কাউকে খেতে দেবো’ আদর্শ মেনেই রাজনীতি করি।”
আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পুলিশ মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করেছে এবং আদালত ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে ও সমস্ত অভিযুক্তদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তভার পুলিশের হাতেই সঁপেছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রকৃত সত্যানুসন্ধানে পুলিশ প্রশাসন কীভাবে জলঘোলা কাটিয়ে আসল সত্য প্রকাশ্যে আনে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে বারুইপুরবাসীর।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা