আন্দোলন যেন রাজনীতির মাধ্যম না হয়, যা সমাজে বিভাজনের ঝুঁকি বাড়ায়: ড. মোহন ভাগবত
নাগপুর, ২০ অক্টোবর (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত বলেন, সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আন্দোলনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। যদি আন্দোলন রাজনীতির মাধ্যম হয়ে ওঠে অথবা ক
সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত


নাগপুর, ২০ অক্টোবর (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত বলেন, সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আন্দোলনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। যদি আন্দোলন রাজনীতির মাধ্যম হয়ে ওঠে অথবা কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের প্রতি বিদ্বেষের মনোভাব নিয়ে পরিচালিত হয়, তবে তা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আন্দোলনকারী, সরকার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আবেদন করেন যে, তাদের কার্যকলাপ যেন সমাজে বৈরিতা, তিক্ততা ও বিভাজন সৃষ্টি না করে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নাগপুরের রেশিমবাগ ময়দানে আয়োজিত বিজয়াদশমী ও শস্ত্রপূজন সমারোহে ভাষণ দেওয়ার সময় ড. ভাগবত বলেন, সমাজে সমস্যা থাকা এবং ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে, কিন্তু আবেগের উচ্ছ্বাস সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের আচরণ সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে থাকা উচিত। একে অপরের সঙ্গে কথা বলা, আচরণ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক লাভ, সস্তা জনপ্রিয়তা বা স্বার্থের জন্য বিবেক ও সদ্ভাবনাকে জলাঞ্জলি দেওয়া উচিত নয়। আন্দোলনের নেপথ্যে এই মনোভাব থাকা দরকার যে, দেশ ও সমাজ আমাদের নিজেদের| এই ব্যবস্থার প্রতি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যদি ক্রমাগত অবিচারের অনুভূতি উস্কে দিয়ে ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করা হয়, তবে এটি দেশকে দুর্বল করে এমন শক্তিগুলোকে সুবিধা দিতে পারে।

সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হোক সমস্যাগুলির

ডঃ ভাগবত জোর দিয়ে বলেন যে, সমাজের সমস্ত সমস্যা কেবল সরকারের মাধ্যমেই বা শুধু আন্দোলনের দ্বারাই সমাধান করা সম্ভব নয়। সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। সমাজে একে অপরের প্রতি সন্দেহ ও তিক্ততা না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে পুরনো মতপার্থক্যগুলো দূর করার প্রয়োজন রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনার ভিত্তিতে মানুষকে উস্কে দিয়ে সংঘর্ষের জন্ম দেয়, এমন প্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকা উচিত।

মাদকাসক্তি: এক গুরুতর জাতীয় সমস্যা

সরসঙ্ঘচালক যুবসমাজে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি এবং মাদকদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে তরুণ প্রজন্ম মাদকের শিকার হচ্ছে। এই সমস্যা কোনও একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গুরুতর জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এর মোকাবিলায় সরকার, প্রশাসন এবং সমাজকে একযোগে দৃঢ় প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও সৎ বিবেকবোধ জাগিয়ে তোলা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ অভিযান চালানোর জন্য সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরাও প্রচেষ্টা চালাবেন।

পঞ্চ পরিবর্তনকে দৈনন্দিন জীবনে আপন করে নেওয়ার ওপর জোর

সঙ্ঘের শতবর্ষের কার্যকালে সম্পন্ন হওয়া কাজগুলির উল্লেখ করে ডঃ ভাগবত সামাজিক সম্প্রীতি, পারিবারিক জ্ঞানার্জন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্ব-বোধ ও স্বদেশী এবং নাগরিক কর্তব্য পালন— এই পাঁচটি নীতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, পঞ্চ পরিবর্তন কেবল এক বছর ধরে চলা কোনও অভিযান নয়, বরং একে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলির পাশাপাশি নৈতিক শৃঙ্খলা এবং বিচক্ষণতারও প্রয়োজন রয়েছে। মিথ্যা ছড়াতে বা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত নয়। এ বিষয়ে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।

সন্ত রবিদাসের অবদানের উল্লেখ

ডঃ ভাগবত সন্ত রবিদাসের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বিদেশি আক্রমণ ও অত্যাচারের সময়ে সন্ত রবিদাস ধর্মীয় নিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভক্তির চেতনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তিনি একটি ভীতসন্ত্রস্ত সমাজকে শক্তি যুগিয়েছিলেন এবং মানুষের মনোবল বাড়ানোর কাজ করেছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি

এ দিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্তা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘের বিদর্ভ প্রান্ত সঙ্ঘচালক দীপক তামশেট্টিওয়ার, বিদর্ভ প্রান্ত সহ-সঙ্ঘচালক শ্রীধর গাডগে এবং নাগপুর মহানগর সঙ্ঘচালক রাজেশ লোয়া, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় এবং ইজরায়েলের মিডওয়েস্ট ইন্ডিয়ার কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ। অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, মহারাষ্ট্রের রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির প্রধান সঞ্চালিকা শান্তাক্কা, প্রাক্তন সাংসদ অজয় সঞ্চেতি এবং বিধায়ক পরিণয় ফুকে-সহ বহু জনপ্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, মহারাষ্ট্রের রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে এবং বিধায়ক পরিণয় ফুকে সঙ্ঘের নির্দিষ্ট পোশাকে অনুষ্ঠানে সামিল হন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande