‘সাহিত্য সৃষ্টির সজীব অসম’ ভাবনায় বৃহত্তর ওদালবাকরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো
গুয়াহাটি, ২০ অক্টোবর (হি.স.) : মূর্তি, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় আবহের জন্য গুয়াহাটির লালগণেশ এলাকার ওদালবাকরায় অবস্থিত মা মঙ্গলময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজো প্রতিবছরই দর্শনার্থী ও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তবে এবার পুজোর বিশেষ আকর্ষণ কেবল
মা মঙ্গলময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজো


গুয়াহাটি, ২০ অক্টোবর (হি.স.) : মূর্তি, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় আবহের জন্য গুয়াহাটির লালগণেশ এলাকার ওদালবাকরায় অবস্থিত মা মঙ্গলময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজো প্রতিবছরই দর্শনার্থী ও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তবে এবার পুজোর বিশেষ আকর্ষণ কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, অসমের সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের এক অভিনব প্রয়াস। ‘সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে সজীব আমাদের অসম’ ভাবনাকে সামনে রেখে ‘জ্ঞান মন্দির’ শীর্ষক থিমে দেবী দুর্গার আরাধনায় ব্রতী হয়েছে বৃহত্তর ওদালবাকরা সর্বজনীন পূজা মন্দির কমিটি।

ষষ্ঠীর দিন ফিতা কেটে ৫৬-তম দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন সাহিত্য অকাদেমি অনুবাদ পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখক, কবি, অনুবাদক, সুবক্তা ও গবেষক দিগন্তবিশ্ব শর্মা। ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশীলন অধ্যাপক, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত অধ্যাপক এবং শ্রীঅরবিন্দের একনিষ্ঠ ভক্ত, সাহিত্য অকাদেমির অসমীয়া ভাষা উপদেষ্টা পর্ষদের আহ্বায়ক দিগন্তবিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রচন্দ্র দে, তিন উপসভাপতি সাধন ঘোষ, বিজয় মজুমদার ও সাধন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক জিশু ভট্টাচার্য সহ কমিটির অন্যান্য পদাধিকারী এবং বকুল নাথ, অজিত মণ্ডল, অনীকসুন্দর বিশ্বাস, লক্ষ্মী সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস, উত্তম ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য সদস্যগণ এবং এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মণ্ডপ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে দিগন্তবিশ্ব শর্মা পুজোর থিম হিসেবে সাহিত্য সৃষ্টির ভাবনাকে বেছে নেওয়ার জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানান। অসমের সৃষ্টিশীল সাহিত্য ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে নবপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রয়াস সমাজে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়ে পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিশু ভট্টাচার্য বলেন, প্রতি বছরই সমাজের প্রতি কোনও গঠনমূলক বার্তা তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশেষ থিম নির্বাচন করা হয়। সেই সঙ্গে সম্পূর্ণ বৈদিক রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান মেনে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে এই মা মঙ্গলময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজোয়।

প্ৰসঙ্গত, গুয়াহাটির সাংসদ বিজুলী কলিতা মেধির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এবারের মণ্ডপসজ্জায় অসমের সাহিত্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অসমের প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও মনীষী লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, রূপকোঁওর জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা, নলিনীবালা দেবী, মামণি রয়সম গোস্বামী, চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা, হেমচন্দ্র গোস্বামী, পদ্মনাথ গোহাঞিবরুয়া, অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী, বীরেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য, নীলমণি ফুকন, হোমেন বরগোহাঞি, ভবেন্দ্রনাথ শইকিয়া, বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা, নির্মলপ্রভা বরদলৈ, লক্ষ্মীনন্দন বরা, হীরেন ভট্টাচার্য, আনন্দচন্দ্র আগরওয়ালা, যতীন্দ্রনাথ দুওরা, অতুলচন্দ্র হাজরিকা প্রমুখের বিশাল চিত্রপট দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। এছাড়া মণ্ডপের অভ্যন্তরে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে অসমের প্রায় সব সাহিত্যিকের সৃষ্টির প্রতীকী গ্রন্থ। সব মিলিয়ে ‘জ্ঞান মন্দির’ থিমের মধ্য দিয়ে সাহিত্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়েছে আয়োজক কমিটি।

জিশু ভট্টাচার্য আরও জানান, এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের পাশাপাশি শাস্ত্রনির্ধারিত রীতিনীতি পালনের ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখতে চায় না কমিটি। সম্পূর্ণ বৈদিক শাস্ত্রবিধি অনুসরণ করে ষোড়শোপচারে দেবীর আরাধনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন দুপুরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্ধ্যায় প্রতিদিনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ প্রসাদের আয়োজন। ষষ্ঠীতে পায়েস, সপ্তমীতে পোলাও ও আলু-পনিরের পদ এবং পুরি-হালুয়ার মতো খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মহাষ্টমীতে বিতরণ করা হয়েছে ফ্রায়েড রাইস ও আলুর দম।

তিনি আরও জানান, কামরূপ মহানগর জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসারে পুজো প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্মীয় নিষ্ঠা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বৃহত্তর ওদালবাকরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবার তাই কেবল দেবী আরাধনার উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়, অসমের সাহিত্য-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande