কদমতলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বাংলাদেশি নাগরিক আটক, মামলা রুজু
১০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের দাবি
বাংলাদেশি গ্রেফতার


কদমতলা ( ত্রিপুরা), ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলায় পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদমতলা থানাধীন ইয়াকুবনগর বিওপির অধীন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পশ্চিম প্রত্যেকরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ইচাইরপাড় ১ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ি থেকে ওই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির নাম মঈন উদ্দিন মিয়া (৪০)। তিনি বাংলাদেশের জুড়ি থানার অন্তর্গত পূর্ব বটলী-বীরেনতলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ইয়াকুবনগর বিওপি-র অধীন বিএসএফ-এর ৯৭ ব্যাটালিয়নের ডি কোম্পানির জওয়ানরা কদমতলা থানার পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেন। পশ্চিম প্রত্যেকরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ইচাইরপাড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আটক ব্যক্তিকে কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১/২৩(এ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মামলার নম্বর ৬২/২০২৬। শুক্রবার তাঁকে ধর্মনগর জেলা আদালতে পেশ করে কদমতলা থানার পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মঈন উদ্দিন মিয়া দাবি করেছেন, ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর কদমতলা থানাধীন ইচাইরপাড় এলাকার তৈয়ব আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে কোন দালালের মাধ্যমে তিনি ভারতে প্রবেশ করেছেন, সেই দালালের পরিচয় এবং অনুপ্রবেশের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্তের বিষয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তৈয়ব আলীর মেয়ে রুকিয়া আক্তার হ্যাপির সঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে মঈন উদ্দিন মিয়ার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। মঈন উদ্দিন মিয়া বাংলাদেশে বসবাস করলেও মাঝেমধ্যে কয়েক দিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে আসতেন এবং পরে বাংলাদেশে ফিরে যেতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

এদিকে, মঈন উদ্দিন মিয়াকে কদমতলা থানায় নিয়ে আসার খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হন। আটক ব্যক্তির সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ও সাক্ষাতের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে আশ্রয় দেওয়া বা ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করতে সহায়তা করার অভিযোগে পরিবারের অন্য কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপের কথা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পর ভারতে প্রবেশের পদ্ধতি, কথিত দালালের ভূমিকা এবং আটক ব্যক্তির এ দেশে অবস্থানের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা তদন্তের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে এই আটকের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande