
কলকাতা, ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : কলকাতা চোরবাগান দুর্গোৎসব মণ্ডপে মহাসপ্তমীর রাতে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মাইকে ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে আরও একজনকে (অ্যানাউনসার) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দ্বিতীয় অভিযুক্তের নাম কুশল মজুমদার। গ্রেফতারের পরই তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতা পুলিশ সদর দফতর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার নদিয়া জেলা থেকে পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ তথা মূল ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এই নিয়ে মাইকে ভীতিপ্রদ ঘোষণা করে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুইয়ে।
উল্লেখ্য, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে যখন উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই মাইকে হঠাৎ ভেসে আসে ভীতিপ্রদ ঘোষণা—মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে! অভিযোগ, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণার ফলেই মণ্ডপে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শনার্থীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ একযোগে সংকীর্ণ এক্সিট গেটের দিকে ছুটতে শুরু করলে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, গ্রিলঘেরা সংকীর্ণ রাস্তায় ও নিকাশদ্বারের মুখে মানুষ জন স্রোতের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন। পুলিশি তদন্তেও স্পষ্ট হয় যে, নিকাশদ্বারের কাছে অবস্থিত ক্লাব ঘরে রাখা মাইক থেকেই মণ্ডপ খালি করার এই আতঙ্কজনক ঘোষণাটি করা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই লালবাজারের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছিলেন কার নির্দেশে এবং কার গলায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই মূল সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সেন্টু তাঁর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আটটি আলাদা অচেনা নম্বর থেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ নদিয়ার এক গোপন ডেরা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত দুই অভিযুক্ত সেন্টু ও কুশল মজুমদারের বাড়ি মণ্ডপ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে অমর বসু সরণিতে। ওই চরম বিশৃঙ্খল মুহূর্তে কার প্ররোচনায় বা কোনো বড় চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাঁরা এই ধরণের ভুয়ো ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) দু'জনকেই মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি