
ঝাড়গ্রাম, ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ায় লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝরিয়া এলাকায় আয়োজিত এক সরকারি সভা থেকে তিনি জানান, রাজ্য সরকার এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রান্তিক আদিবাসী পরিবারগুলির ঘরে ঘরে বিনামূল্যে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি এটি একটি বিশেষ অতিরিক্ত মানবিক উদ্যোগ, যা বাজেটে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন। এর ফলে ঝাড়গ্রাম জেলার প্রায় ২৫ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার আদিবাসী পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন।
এ দিনের প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে জনজাতির উন্নয়নে আরও একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তফসিলি জনজাতির ক্ষেত্রে বার্ধক্য ভাতা বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের প্রায় ২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে বিশেষ পড়ুয়া ভাতা বা 'এসটি ভাতা' প্রদান করা হবে। এ ছাড়া আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে পৃথক আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ঝাড়গ্রামের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ইতিমধ্যেই ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের প্রশাসন পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিকে কেন্দ্রীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এই সরকার পশ্চিমাঞ্চলকে কখনই বঞ্চিত করবে না। এখানকার প্রতিটি যোগ্য পরিবারের জন্য ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং নতুন জব কার্ডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে 'আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা'।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি