
আগরতলা, ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : শুধু কথা বললেই হবে না, মানুষের জন্য কাজ করে দেখাতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের কাজের মধ্য দিয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। খালি কথার ফুলঝুরি দিয়ে মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়। কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা মানুষ কখনোই গ্রহণ করবেন না। শুক্রবার আগরতলা পুর নিগমের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আমতলির বৈষ্ণবটিলা এলাকায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করে এভাবেই জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও অন্যান্য কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে নবনির্মিত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়িকা মীনা রানি সরকার, পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর হরিসাধন দেবনাথ-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
কমিউনিটি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে উন্নয়ন, জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা এবং জনসাধারণের প্রতি কর্তব্য পালনের প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি। শুধু পরিকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব পড়লেই তাঁরা সেই কাজের যথার্থতা উপলব্ধি করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব পড়বে জনমনে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধু কথাবার্তা বলে কাজের ক্ষেত্রে কিছুই না করলে মানুষ তা মেনে নেবেন না। তাই জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাঁদের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
আগরতলা পুর নিগমের মেয়াদ প্রায় পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের মেয়াদও চার বছর অতিক্রম করতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার এবং পুর প্রশাসনের কাজের মূল্যায়ন করার সুযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের সামনে। পূর্বতন সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাজের তুলনা করলে মানুষ নিশ্চয়ই পার্থক্য বুঝতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন ও জনকল্যাণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, কাজের আরেক নামই ভারতীয় জনতা পার্টি। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের নিরিখেই প্রধানমন্ত্রী একটানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদারও পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হলেও সেগুলির নামকরণ যাঁদের নামে করা হয়েছিল, তাঁদের অবদান সংশ্লিষ্ট এলাকা কিংবা দেশের ক্ষেত্রে কতটা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, দলীয় নেতাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যেই তৎকালীন সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মেয়র আরও বলেন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই কমিউনিটি হলটিও পূর্বতন সরকারের আমলে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার এবং আগরতলা পুর নিগমের প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কমিউনিটি হল এলাকার মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কাজে হলটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কমিউনিটি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যেরও মঞ্চ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রতিনিধিদের কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মূল্যায়ন করবেন সাধারণ মানুষই—এমন বার্তাই এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ