মুসলিম সম্প্রদায়ের অগ্রগতি কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব: মোহাম্মদ শাহিদ আখতার
কলকাতা, ৩ অক্টোবর (হি .স.) : সংখ্যালঘুদের সার্বিক বিকাশ, আধুনিক শিক্ষা এবং জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ''মাইনোরিটি সিটিজেন ফোরাম''-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন শনিবার সমাপ্ত হয়েছে।
মোহাম্মদ শাহিদ আখতার


কলকাতা, ৩ অক্টোবর (হি .স.) : সংখ্যালঘুদের সার্বিক বিকাশ, আধুনিক শিক্ষা এবং জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে 'মাইনোরিটি সিটিজেন ফোরাম'-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন শনিবার সমাপ্ত হয়েছে। এই চিন্তনমুখী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের জাতীয় আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহিদ আখতার এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজেদের মূল্যবান মতামত পেশ করেন, যেখানে সংখ্যালঘুদের মূলধারার উন্নয়ন ও জাতি গঠনে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মোহাম্মদ শাহিদ আখতার বলেন যে, কেবল শিক্ষার (তালিম) মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষার দিশা এমন হওয়া উচিত যা সমাজকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর এ.পি.জে. আবদুল কালামের মতো মহান ব্যক্তিত্ব উপহার দেবে, কাসাবের মতো কোনো জঙ্গি নয়।

জাতীয় পরিচয়ের ওপর কঠোর বার্তা দিয়ে আখতার বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নিজেদের কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বদলে একজন গর্বিত ভারতীয় হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, যারা নিজেদের পরিচয় কেবল 'মুসলিম' পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, তারা প্রায়শই জাতীয় সংগীতে সমস্যা খোঁজে, 'বন্দে মাতরম' বলতে আপত্তি জানায় এবং ভারতে নানা ত্রুটি খুঁজে পায়। কিন্তু, কোনো ব্যক্তি যখন নিজেকে পূর্ণরূপে ভারতীয় বলে মনে করে এবং দেশের বৈচিত্র্যকে সানন্দে স্বীকার করে নেয়, তখন সমগ্র দেশকেই তার একটি বড় পরিবার বলে মনে হয়। এই ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই মুসলিম সমাজ রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মাদ্রাসাগুলিতে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি মঞ্চে উপস্থিত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে একটি পূর্বাঞ্চলীয় কনক্লেভ আয়োজনের দাবি জানান। তিনি অনুরোধ করেন, এই কনক্লেভে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কার নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করা হোক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট অতিথি তথা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিগত পাঁচ দশকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে কেবল একটি ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভয় দেখিয়ে তাঁদের দেশ ও রাজ্যের বিরুদ্ধে পরিচালনা করতে প্ররোচিত করেছে।

মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এখন সময় এসেছে যে তারা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের বিকাশ ও উন্নতিতে অংশীদার হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নে প্রস্তুত এবং সর্বদা সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।

এই চিন্তনভিত্তিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন 'মাইনোরিটি সিটিজেন ফোরাম'-এর রাজ্য আহ্বায়ক সুরমান আলী মন্ডল। যুব সমাজ, শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীলতা বিষয়ে এক অর্থবহ সংলাপ গড়ে তোলাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande