২০২৯-এ ডায়মন্ড হারবারে অভিষেককে হারানোর চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, জয়ের ব্যবধান নিয়েও বড় হুঁশিয়ারি
বারুইপুর, ৩০ অক্টোবর (হি. স): বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গত লোকসভা নির্বাচনে যত ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন অভিষেক, ২০২৯ সালে তার থেকেও অন্তত একটি ভোট বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ
২০২৯-এ ডায়মন্ড হারবারে অভিষেককে হারানোর চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, জয়ের ব্যবধান নিয়েও বড় হুঁশিয়ারি


বারুইপুর, ৩০ অক্টোবর (হি. স): বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গত লোকসভা নির্বাচনে যত ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন অভিষেক, ২০২৯ সালে তার থেকেও অন্তত একটি ভোট বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শুভেন্দু।

শুক্রবার বারুইপুরের রাজনৈতিক সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে একের পর এক কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। অভিষেককে 'এঁচোড়ে পাকা ভাইপো' বলে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে গোটা জেলায় অবাধে ভোট করতে দেওয়া হয়নি। ডিজে বাজানো থেকে শুরু করে পুজোর আমন্ত্রণ, বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে অভিষেককে বিঁধতে থাকেন তিনি। শুভেন্দুর কটাক্ষ, এবারের পুজোয় পিসি-ভাইপোকে পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কেউ ডাকেনি।

এ দিনের সভায় বামেদেরও রেয়াত করেননি শুভেন্দু। বারুইপুরে মাকু, ছারপোকা ও আরশোলাদের উৎপাত বেড়েছে বলেই এই সভার প্রয়োজন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিপিএম নেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিনটি পরীক্ষায় তাঁরা ইতিমধ্যেই বসেছেন। ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জয়ই সেই পরীক্ষায় পাশ বলে দাবি করে শুভেন্দুর বক্তব্য, এটা কেবল শুরু। সামনে কলকাতা পুরসভার ভোটও রয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। সাহস থাকলে ফের নির্বাচনে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁকে হারানোর হুঁশিয়ারি দেন। মমতাকে দিল্লি যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর আর কিছু হওয়ার নেই। পাশাপাশি ইন্দ্রনীলের সঙ্গে ডুয়েট করার প্রসঙ্গ তুলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

ক্যানিংয়ের জমি দখল, সওকাত মোল্লা ও পরেশ রাম দাসকে নিশানা করে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, একটা চোরও রাতে বাড়িতে থাকতে পারবে না। বারুইপুর পুরসভার দুর্নীতিতে যুক্তদের কোমরে দড়ি পরানোর কথাও বলেন তিনি। তাঁর দাবি, বড় মাথারাও জেলে যাবেন। পুজো-পার্বণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে লায়েক আলি, জাহাঙ্গির ও সওকাত মোল্লাদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু।

সূর্যপুরের নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা নগদ সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, গুজব ছড়িয়ে এক হিন্দু যুবককে খুন করানোর অভিযোগও তোলেন। মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনায় সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করার কথাও সভায় তুলে ধরেন।

এ দিনের সভা থেকে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু। তাঁর আশ্বাস, গ্রামের মানুষ ১২৫ দিনের কাজ পাবেন। যাঁদের বাড়ি নেই, আবাস যোজনায় তাঁদের প্রত্যেককে বাড়ি দেওয়া হবে। রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইবে বলেও বার্তা দেন তিনি।

বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠন আরও মজবুত করার বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, মানুষ শুধু রং বা পতাকার পরিবর্তন চাননি, তাঁরা সিস্টেমের পরিবর্তনও চেয়েছেন। পঞ্চায়েত ও পুরসভা দখল না করা পর্যন্ত সেই পরিবর্তন সম্পূর্ণ হবে না। তাঁর দাবি, এই জেলায় ব্যাপক ভোট লুট হয়েছে, তা না হলে বিজেপির আসন সংখ্যা আরও বাড়ত।

সব মিলিয়ে, বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে হারানোর যে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু ছুড়েছেন, তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা




 

 rajesh pande