
কলকাতা, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে ফের সক্রিয় হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যের চার জেলায় একসঙ্গে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি আধিকারিকরা কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং আসানসোলের বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। একাধিক ভুঁয়ো কোম্পানি বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে এই কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে।
ইডি সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোরের দিকেই তদন্তকারীরা হাওড়ার বিবেকবিহার এলাকায় এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তরুণ কুমার জৈনের বাসভবনে হানা দিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা শুরু করেন। এর পাশাপাশি, হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে অপর এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্ত ঘোষের বাড়ি এবং কলকাতা ও আসানসোলের আরও দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাসভবনেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই হানা ও তল্লাশির প্রসঙ্গে হুগলির উত্তরপাড়ার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্ত ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তদন্তকারীরা আদালতের যথাযথ অনুমতি নিয়েই তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। ইডি তাদের নিয়মমাফিক তদন্ত চালাচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে তাঁর দাবি। যদিও ঠিক কী অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত চলছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
লেকটাউনের এক আবাসন কমপ্লেক্সে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এর বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সকাল থেকেই সেখানেও জোরকদমে তল্লাশি অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, ২৯০ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক তছরুপের ঘটনায় নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং ভুঁয়ো কোম্পানির জালের মাধ্যমে কীভাবে এই টাকা পাচার করা হয়েছিল। এই ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইডি-র পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি