
নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর (হি.স.): ভোট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটকে আক্রমণ করল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে বিরোধীরা সংসদকেই উপহাসের বিষয় করে তুলছে। কংগ্রেসের ‘মক পার্লামেন্ট’ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপির দাবি, প্রকৃত সংসদে ঘুমিয়ে পড়া, চোখ মারা, অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকা, ওয়েলে নেমে হইচই করা এবং সংসদের কাজকর্মে বাধা দেওয়াই কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের রাজনৈতিক রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের জাতীয় মুখপাত্র তথা সাংসদ ড. সম্বিত পাত্র। সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মজয়ন্তীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম দিকেই ভোট চুরির নজির তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা সর্দার পটেলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। পাত্রের বক্তব্য, এটি ছিল দেশের প্রথম ‘অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার উদাহরণ। নেহরু পটেলকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ভোট চুরির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে পাত্র বলেন, খাড়্গের দাবি, ১৩ কোটি ভোটারের ভোট চুরি হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্রের প্রশ্ন, সত্যিই যদি ১৩ কোটি মানুষের ভোট বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে দেশে শান্তি বজায় থাকল কীভাবে? সংশ্লিষ্ট ভোটারেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেন না কেন?
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের প্রসঙ্গে পাত্র জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়নি। যাঁদের মনে হচ্ছে, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই, তাঁরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
বিজেপি মুখপাত্রের বক্তব্য, সরকার, বিরোধী দল এবং সংবাদমাধ্যম-সহ সকলেরই দায়িত্ব নিশ্চিত করা যে, ভোটাধিকার কেবল ভারতীয় নাগরিকদেরই হাতে থাকে। অনুপ্রবেশকারীদের দেশের ভোটার হওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করা এবং তালিকাকে নির্ভুল করাই সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।
ফর্ম-৬ সংশোধন করা হয়েছে বলে খাড়্গের অভিযোগের জবাবে পাত্র বলেন, ওই ফর্মে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি; বরং তার সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ফর্ম-৬ সংশোধন এবং তার সঙ্গে ঘোষণাপত্র যুক্ত করার মধ্যে আদালতও পার্থক্য স্পষ্ট করেছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগেরও জবাব দেন পাত্র। তাঁর দাবি, এসআইআর চালুর সিদ্ধান্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সম্মিলিতভাবে সর্বসম্মতিতে নিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের তরফে ছবি ও বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খাড়্গের বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা বলার অভিযোগ তুলে পাত্র বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে সত্য প্রমাণ করা যায় না। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে বিরোধীদের তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য