
আগরতলা, ৩১ অক্টোবর (হি.স.) : ইন্ডি জোটের রাজনৈতিক আন্দোলনের পাল্টা শক্তি প্রদর্শনে রাজধানী আগরতলায় বিশাল পদযাত্রা করল বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার আয়োজিত এই পদযাত্রায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন দলের সাংগঠনিক দৃঢ়তার ছবি উঠে আসে, অন্যদিকে মঞ্চ থেকে ইন্ডি জোটের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। একই মঞ্চে লোকসভার সাংসদ ও বিজেপির রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেন।
দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডি জোটের আন্দোলনের আবহে রাজ্যেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা পিছুটান লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শনিবারের পদযাত্রা দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি আসন্ন নগর সংস্থার নির্বাচনের আগে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে ওঠে। পদযাত্রায় জনসমাগমকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার বেলা দুটোয় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে পদযাত্রার সূচনা হয়। তার আগে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা এবং বিপ্লব কুমার দেব। পরে পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে প্যারাডাইস চৌমুহনীতে এসে শেষ হয়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইন্ডি জোটের রাজ্য শাখার নেতাদের একহাত নেন। বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিছিলে একজন আরেকজনের হাত ধরে টেনে নিয়ে চলেছেন, অথচ একজনের স্লোগানে অন্যজন নীরব থাকছেন। এই ধরনের সমন্বয়হীনতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, এটি আদৌ কী ধরনের জোট?
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সব ধরনের অরাজকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, কর্মী-সমর্থকদের অন্তরে নিহিত ক্রোধকে জাগ্রত করে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের সভায় আরও আক্রমণাত্মক সুরে বক্তব্য রাখেন বিপ্লব কুমার দেব। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী লোকটার নামই ডুপ্লিকেট, গোটা পরিবারের নামই দুনম্বরি।” জাতি গণনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সেখানে গান্ধী পরিবারের পরিচয় কী হবে, তা দেশবাসী জানতে চান। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপির এই পদযাত্রায় কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি আসন্ন নগর সংস্থার নির্বাচনের আগে দলকে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষত ইন্ডি জোটের আন্দোলনের পাল্টা রাজধানীতে বিজেপির এই জনসমাগমকে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রকাশ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ