পুলিশের লাঠিচার্জে তিপ্রা মথা নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, চাম্পাহাওরে উত্তেজনা
আগরতলা, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে খোয়াই মহকুমার চাম্পাহাওর এলাকায়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তিপ্রা মথার
তিত্রা মথা নেডার মৃত্যু


আগরতলা, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে খোয়াই মহকুমার চাম্পাহাওর এলাকায়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তিপ্রা মথার স্থানীয় নেতৃত্ব মতিলাল কর্মকারের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের লাঠির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মথার নেতৃত্ব। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

জানা গেছে, সোমবার ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে চাম্পাহাওর গণনা কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে মারপিটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

এই সময় পুলিশের লাঠিচার্জের মধ্যে পড়ে যান তিপ্রা মথার স্থানীয় নেতা মতিলাল কর্মকার। অভিযোগ, পুলিশের লাঠির আঘাতে তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগে। মুখমণ্ডলেও আঘাত লাগে। এরপর ঘটনাস্থলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরবর্তীতে পুলিশই আহত মতিলাল কর্মকারকে উদ্ধার করে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের স্ত্রী মনিমালা দেববর্মা কর্মকার এদিন জিবিপি হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর স্বামী চাম্পাহাওর এলাকার তিপ্রা মথা দলের অঞ্চল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ ফোন করে তাঁকে স্বামীর আহত হওয়ার খবর দেয় বলেও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের লাঠির আঘাতেই তাঁর স্বামী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে এদিন জিবিপি হাসপাতালে ছুটে যান তিপ্রা মথা দলের আগরতলা শহর কমিটির সম্পাদক আইজ্যাক দেববর্মা। তিনি ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন।

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাম্পাহাওর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ এবং একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে মতিলাল কর্মকারের মৃতদেহ আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার তাঁর মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং শরীরে আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande