
দুর্গাপুর, ৫ অক্টোবর (হি.স.) :
কোনো দামি বা প্রথাগত ক্যানভাস নয়, অতি সূক্ষ্ম একটি চালের দানাই তাঁর ক্যানভাস। আর সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিসরেই নিখুঁত রং-তুলির স্পর্শে দেবী দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তুলে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছেন দুর্গাপুরের উদীয়মান উদ্ভাবক ও শিল্পী ছোটন ঘোষ। এক অসাধ্য সাধন করে গড়া এই অনন্য শিল্পকর্মটি এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শিল্পীর বাড়ি দুর্গাপুরের ধুবচুড়িয়া গ্রামে। পেশায় তিনি মণ্ডপ ও পুষ্পালঙ্কারের কাজের সঙ্গে যুক্ত। মাধ্যমিক পাস করার পর মূলত বাবার গ্যারেজে কাজ করেই তাঁর কারিগরি ও গঠনমূলক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। ক্যানভাসে আঁকা যে চালের দানা অসাবধানতাবশত হাত থেকে মাটিতে পড়লে নিমেষে হারিয়ে যেতে পারে, সেইটুকু স্থানে মা দুর্গার পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার পেছনে রয়েছে টানা ছয় দিনের একনিষ্ঠ সাধনা ও অসীম ধৈর্য। সামান্য নিঃশ্বাসের তারতম্য বা হাতের অতি ক্ষুদ্র কাঁপুনিও নষ্ট করে দিতে পারত দিনের পর দিন ধরে চালানো এই প্রচেষ্টা।
এই সুক্ষ্মতম শিল্পকর্মটি ফুটিয়ে তুলতে কোনো প্রচলিত তুলি ব্যবহার করেননি ছোটন। তাঁর হাতিয়ার ছিল ইলেকট্রিক কপার তারের অতি সূক্ষ্ম অংশ এবং চুলের মতো পাতলা আলপিন। সাধারণ চোখে কেবল একটি দাগ মনে হলেও, শক্তিশালী আতশ কাঁচ বা লেন্সের সাহায্যে দেখলে চালের দানায় দেবীর অবয়ব ও নিখুঁত রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ছোটন ঘোষের এই ধরনের নতুনত্ব সৃষ্টির ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে তিনি জাতীয় সড়কের পাশে বাবার বাস-লরি মেরামতির গ্যারেজের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে নানাবিধ উদ্ভাবনী সামগ্রী বানিয়ে তাক লাগিয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচে ১০ আসনবিশিষ্ট একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত বিশেষ বাইক তৈরি করে তিনি প্রথম সংবাদ শিরোনামে আসেন। পরবর্তীতে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে উড়তে সক্ষম রিমোট-নিয়ন্ত্রিত 'চন্দ্রযান-৩'-এর মডেল, মানব বহনকারী ড্রোন, মহিলাদের সুরক্ষার জন্য বৈদ্যুতিক 'টিজার গান' এমনকি বিস্কুট দিয়ে অযোধ্যার রাম মন্দির ও দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের রেপ্লিকা তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।
এবার চালের দানায় দুর্গা প্রতিমা এঁকে আন্তর্জাতিক রেকর্ডের স্বপ্ন দেখা ছোটন ঘোষ জানান, অনেকদিন ধরেই চালের দানায় মা দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তোলার ইচ্ছা ছিল। এটি খালি চোখে দেখা কঠিন, লেন্সের সাহায্যেই এর প্রকৃত রূপ প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। আমার এই কঠোর পরিশ্রমে সৃষ্ট শিল্পকর্মটি রাজ্যপালের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে স্বহস্তে উপহার হিসেবে দিতে চাই।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা