(আপডেট) অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ধসের পর বিষাক্ত গ্যাসের প্রাদুর্ভাব, অসুস্থ ২ খনিকর্মী, আতঙ্কে গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার
দুর্গাপুর, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : ইসিএল -এর কেন্দা অঞ্চলের অন্তর্গত অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ভূগর্ভস্থ ধস ও খনিতে জল ঢোকার পর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। ভূগর্ভ থেকে মাটির ফাটল দিয়ে প্রবল বেগে বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করায
(আপডেট) অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ধসের পর বিষাক্ত গ্যাসের প্রাদুর্ভাব, অসুস্থ ২ খনিকর্মী, আতঙ্কে গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার


দুর্গাপুর, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : ইসিএল -এর কেন্দা অঞ্চলের অন্তর্গত অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ভূগর্ভস্থ ধস ও খনিতে জল ঢোকার পর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। ভূগর্ভ থেকে মাটির ফাটল দিয়ে প্রবল বেগে বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করায় সমগ্র খনি এলাকা ও সংলগ্ন গ্রামগুলিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় খনির গভীরে আটকে পড়া দুই শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আতঙ্কে বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন স্থানীয় বহু পরিবার। খনি কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে কেন্দা এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

স্থানীয় ও খনি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে সিঁদুলি কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিটের কাছে প্রথম বিকট শব্দের পর মাটি ফুঁড়ে তীব্র ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গ্যাস বের হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে কোলিয়ারির এজেন্ট ও ম্যানেজার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, খনির ভেতরের সিল করা অংশ ভেঙে হু হু করে জল ঢুকছে এবং তার চাপে মাটি চিরে গ্যাস ও ধোঁয়া ওপরের দিকে উঠে আসছে।

রবিবার রাতের শিফটে খনিতে কর্মরত শ্রমিকেরা জল ঢোকার বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ওপরে উঠে আসতে পারলেও, বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দুজন শ্রমিক খনির ভেতরেই আটকা পড়েন। সোমবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওপরে নিয়ে আসার সময় দুজনেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এদিকে কোলিয়ারি সংলগ্ন বাউরি পাড়া, বেদে পাড়া এবং মাঝি পাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভীতিপ্রদ মৃদু কম্পন অনুভব করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি ফুটবল মাঠ ও জনবসতি এলাকার কাঁচা-পাকা মাটির ফাটল দিয়ে ফোঁয়ারার মতো গ্যাস ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। দুর্গাপূজার মুখেই প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন শতাধিক পরিবার।

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অবিলম্বে পুনর্বাসনের দাবিতে ইসিএল-এর কেন্দা এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে শামিল হন স্থানীয় অধিবাসীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত খনন এবং সুরক্ষাবিধি না মানার কারণেই আজকে তাঁদের জীবন বিপন্ন।

ঘটনা প্রসঙ্গে আসানসোল-রাণীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ বলেন, “পূর্বতন সরকারের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং অবহেলার ফলেই ধসপ্রবণ এলাকার মানুষ আজ এই বিপদের মুখে পড়েছেন। বিগত সরকার তাঁদের সঠিক পুনর্বাসন দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। আমাদের বর্তমান সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, কোলিয়ারির এজেন্ট পঙ্কজ কুমার বর্মা জানান, “খনিতে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আটকে পড়া দুই কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর আমাদের কড়া নজর রয়েছে এবং মাটির ওপর দিয়ে গ্যাস বেরোনোর কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande