রাজ্য উৎসবের মর্যাদা পেল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো
হুগলি, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি রাজ্য উৎসবের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল। মঙ্গলবার চন্দননগরের আলো হাবে আয়োজিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এ
রাজ্য উৎসবের মর্যাদা পেল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো


হুগলি, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি রাজ্য উৎসবের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল। মঙ্গলবার চন্দননগরের আলো হাবে আয়োজিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই স্বীকৃতির ফলে চন্দননগরের ঐতিহাসিক জগদ্ধাত্রী পুজো এবার আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

এদিনের বৈঠকে জগদ্ধাত্রী পুজোর পাশাপাশি কালীপুজো, কার্তিক পুজো এবং ছটপুজোর প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিসর্জনের ব্যবস্থাপনার উপর।

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, জগদ্ধাত্রী পুজো রাজ্য উৎসবের মর্যাদা পাওয়ায় হুগলি জেলা তথা পশ্চিমবঙ্গের সম্মান আরও বৃদ্ধি পেল। এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তিনি প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অনুদান দেওয়ার পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও প্রশাসন প্রস্তুত থাকবে।

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি চন্দননগরে এসেছেন। চন্দননগরের ঐতিহাসিক জগদ্ধাত্রী পুজোকে দেশ-বিদেশে আরও পরিচিত করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। গঙ্গার ঘাটগুলিতে জোয়ার-ভাটার সময় জলস্তরের পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য পানীয় জল, শৌচাগার, পরিষেবা শিবির, নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি শহরের ফুটপাত আলপনায় সাজিয়ে তোলা হবে। ফরাসি ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলির পাশাপাশি গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলের সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর চন্দননগরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ধাঁচে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানান, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্য নদীবক্ষে ভ্রমণ এবং তরুণ প্রজন্মের সুবিধার্থে লঞ্চ পরিষেবা চালু করার বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক এবং একাকী বসবাসকারী মানুষের সুবিধার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রায়, বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার ভূষণ সিং-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী চন্দননগরের কয়েকটি বিসর্জন ঘাট ও পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিসর্জনের শোভাযাত্রা। রাজ্য উৎসবের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার আরও বর্ণাঢ্য, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে চন্দননগর।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ সাঁতরা




 

 rajesh pande