
হাফলং (অসম),৬ নভেম্বর (হি স): শীতের মরসুমে ফের পরিযায়ী পাখি আমুর ফ্যালকনের আনাগোনায় মুখর অসমের আকাশ। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে এক লক্ষেরও বেশি আমুর ফ্যালকন। ডিমা হাসাও জেলার উমরাংশু এবং মরিগাঁও জেলার ধরমতুল-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই পরিযায়ী পাখিদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। পাখিদের এই অবাধ বিচরণ ও বিশ্রামে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য তাদের সমাগমস্থল ও রাত্রিযাপনের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন অসমের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বনমন্ত্রী জানান, পূর্ব এশিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতি বছর পরিযানে বের হয় আমুর ফ্যালকন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে অসম তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক বিশ্রামস্থল। এখানে কিছু সময় অবস্থানের পর ফের দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে উড়ে যায় পাখির দল।
প্রতি বছর আমুর ফ্যালকনের এই আগমন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। একই সঙ্গে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে অসমের প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বও তুলে ধরে এই ঘটনা।
তবে পাখিদের সমাগম দেখতে গিয়ে মানুষের অসতর্ক আচরণ যাতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন বনমন্ত্রী। বিশেষ করে সমাগম স্থলের আশপাশে ড্রোন ওড়ানোর ফলে সৃষ্ট শব্দ ও আকস্মিক গতিবিধিতে পাখিরা আতঙ্কিত হতে পারে। ব্যাহত হতে পারে তাদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক আচরণ। তাই প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের এ বিষয়ে সংযত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
আমুর ফ্যালকনের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতার উপর জোর দিয়েছেন জয়ন্ত মল্ল বরুয়া। পরিযানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাখিদের জন্য শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃতির এই অনন্য সম্পদকে রক্ষা করতে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব