উত্তরাখন্ডে উদ্ধার ৪ অভিযাত্রী যুবকের দেহ এল গ্রামে, মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার যাবেন পরিবারগুলির কাছে
বাঁকুড়া, ৮ নভেম্বর (হি.স.) : কালী পূজার দিন সকালে বাঁকুড়ার গ্রামে ফিরল ৪ পর্বাতারোহী বন্ধুর কফিনবন্দি দেহ। তাদের শেষ চোখের দেখা দেখতে এবং শেষ বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। মৃতদেহগুলিকে এক জায়গায় নামিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়। বাঁ
উত্তরাখন্ডে উদ্ধার ৪ অভিযাত্রী যুবকের দেহ এল গ্রামে, মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার যাবেন পরিবারগুলির কাছে


বাঁকুড়া, ৮ নভেম্বর (হি.স.) : কালী পূজার দিন সকালে বাঁকুড়ার গ্রামে ফিরল ৪ পর্বাতারোহী বন্ধুর কফিনবন্দি দেহ।

তাদের শেষ চোখের দেখা দেখতে এবং শেষ বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। মৃতদেহগুলিকে এক জায়গায় নামিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়। বাঁকুড়ার নিলাদ্রী শেখর দানা ও জেলা শাসক অনীশ দাশগুপ্তর নেতৃত্বে এই পুরো বিষয়টি পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাঁকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং স্থানীয় বিডিও সহ বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকেরা। আগামী ১২ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শালবনী গ্রামে আসবেন পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে ও পাশে থাকার কথা জানাতে। জেলা শাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানান যে গত ২৭ অক্টোবর থেকে পর্বাতারোহী এই ৫ বন্ধুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। জেলা এবং রাজ্য প্রশাসন উত্তরাখন্ড সরকারের সাহায্যে উদ্ধার কার্য চালিয়েছে।বাঁকুড়ার গ্রামে ৪ জনের দেহ আনা হয়েছে।এখনও রতন ঘোষ নিখোঁজ। উত্তরাখন্ড সরকার ১-৬ নভেম্বর উদ্ধার কার্য চালিয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় সাময়িক তা বন্ধ রয়েছে।পরবর্তিতে রতনের খোঁজ চালানো হবে। জেলা ও রাজ্য প্রশাসন প্রথম দিন থেকে এবিষয়ে পাশে রয়েছে আর আগামীতেও থাকবে।বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা জানান যে গত ৬ দিন ধরে উৎকন্ঠায় ছিলেন পরিবারে সদস্যরা।আজ তারা বাড়ির ছেলেকে চোখের দেখাদেখতে পেলেন।আমাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও উত্তরাখন্ড সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার কাজ চালিয়েছে।এদিন কলকাতা থেকে সরাসরি চারজনের দেহ শালবনী গ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে জেলা শাসকের কাছ থেকে মনোজ খাওয়াসের দেহকেশরা গ্রামে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি বাঁকুড়ায় ফেরানো হয়েছে। উত্তরকাশী প্রশাসন জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার জন্য আপাতত তল্লাশি অভিযান স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অভিযান শুরু হলে জানাবে। নিখোঁজ রতন ঘোষের সন্ধান পেতে উত্তরকাশী প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে বলেও জেলাশাসক জানান।

উল্লেখ্য, বাঁকুড়া-২ ব্লকের শালবনি গ্রামের রিন্টু মণ্ডল, তাপস বাউড়ি, রতন ঘোষ, উদয় ঘোষ এবং পার্শ্ববর্তী কেশরা গ্রামের মনোজ খাওয়াস গত ২৪ অক্টোবর ২৬ উত্তরাখণ্ডে যান। গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল রুটে ট্রেকিং করার পথে তুষারধসে নিখোঁজ হয়ে যান তারা। পরে উদ্ধার হয় রিন্টু, উদয়, তাপস ও মনোজের দেহ। তাদের দেহ শনাক্ত করণ ও ময়না-তদন্ত হয় উত্তরকাশী জেলা হাসপাতালে।তারপর দেহ নিয়ে শুক্রবার রাতে উত্তরকাশী থেকে সড়ক পথে দেরাদুন হয়ে দিল্লি আসেন শনিবার সকালে।সেই রাতেই দিল্লি থেকে দু'টি বিমানে তাদের দেহ কলকাতায় আনা হয়। সেখান থেকে সড়ক পথে আনা হয় বাঁকুড়ার শালবনী গ্রামে। এদিকে গ্রামের পথে মৃতদেহ আসতেই ছুটে যান এলাকার প্রায় সকলে। শেষবারের মতো গ্রামের প্রিয় ছেলেদের মুখ দেখতে ভিড় জমে গিয়েছিল।কিন্তু সেই ভিড়ে দেখা মেলেনি রতন ঘোষের পরিবারের কারও।তাদের ছেলের যে চারবন্ধুর দেহ ফিরেছে,তাদের দেখতে যাওয়ার মত মানসিক শক্তিটুকুও হারিয়েছেন তারা।রতনের বাবা ভোলানাথঘোষের চোখে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার করুন আকুতি। তাঁর কথায়, “গ্রামের সবাই এলো, আমার ছেলেটা এখনও এল না। প্রশাসন আমার ছেলেকে খুঁজে বার করে দিক।”

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande