
‘অসমকে অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা বানিয়েছে কংগ্ৰেস’
‘কংগ্ৰেস অসমের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, পরিচয় ও আত্মসম্মানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’
গুয়াহাটি, ১১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন ‘উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে। সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় বাজেটে এই অঞ্চলের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিকশিত ভারত গঠনের জন্য এক শক্ত ভিত স্থাপন করেছে, গুয়াহাটিতে এক সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
আজ বুধবার কেন্দ্রিয় মন্ত্রী বলেন, এই বাজেট কেবল সংখ্যার সমষ্টি নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আশার এক ভিশন ডকুমেন্ট। দেশের প্রতিটি অংশে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তিনি তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার ওপর জোর দিয়ে এই বাজেট ভারতের অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাঁর কথায়, বাজেট সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের জন্য উপকারি এবং এটি ভারত, অসম সহ উত্তরপূর্বের উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আর্থিক পরিকল্পনা সব রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, বিশেষত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য।
শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘এই বাজেট সমাজের প্রতিটি স্তর ও প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য। এতে প্রতিটি রাজ্যকে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে শক্তিশালী করার রূপরেখা রয়েছে। ভারতের ভবিষ্যতের জন্য আমাদের একটি দৃঢ় রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।’ তিনি জানান, এই পদক্ষেপগুলি অঞ্চলে শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ববর্তী সরকারগুলির সমালোচনা করে শিবরাজ সিং বলেন, বহু দশক ধরে কংগ্রেস উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে অসমকে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই অঞ্চলকে রাজনৈতিক পরীক্ষাগার বানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অনুন্নত ও অস্থির অবস্থায় রেখেছিল, যার ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বছরের পর বছর কংগ্রেসের ভুল শাসনের ফলে অসম ও সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুন্নত ও অস্থির ছিল। উত্তরপূর্বের পরিচয় বহনকারী অসমও অশান্তি ও অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত ছিল। কংগ্রেস আরও একটি গুরুতর ভুল করেছে, তারা অসমকে অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা বানিয়েছে। অসমের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, পরিচয় ও আত্মসম্মানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।’ তিনি ভারতের প্রেক্ষাপটে অসমের সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বকে দিয়ে তিনি এই অঞ্চলকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ বলে বৰ্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সমগ্র উত্তরপূর্বকে অষ্টলক্ষ্মী হিসেবে অভিহিত করেছেন। আমাদের উত্তরপূর্বের আটটি রাজ্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের গতি ও সঠিক দিশা পেয়েছে।’
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে মূলধনী বিনিয়োগ, কর বণ্টন, অনুদান ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অসমের জন্য কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজ্যগুলিকে মূলধনী ব্যয়ের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় অসম পেয়েছে ১৭,১০৪ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কর বণ্টন বাবদ ৪৯,৭২৫ কোটি টাকা এবং অনুদান হিসেবে ২৯,৫৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে অসম কর বণ্টনের মাধ্যমে পেয়েছে ৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা এবং অনুদান হিসেবে ২.৪৯ লক্ষ কোটি টাকা।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অসমে ২.৫৫ কোটির বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনায় ১.৪৫ কোটির বেশি এবং অটল পেনশন যোজনায় ২ কোটি গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস