
গুয়াহাটি, ২৬ মাৰ্চ (হি.স.) : অসম আন্দোলনের সময় থেকেই অসমের মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৯৮৩ সালের অবৈধ নির্বাচনের সময়ও অসমবাসীর আহ্বানকে সম্মান জানিয়ে বিজেপি সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু বামপন্থী দলগুলি এবং তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি অসম আন্দোলনের বিরোধিতা করে ১৯৮৩ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। বিজেপি রাজ্যের খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র)-দের সুরক্ষিত রাখতে সংকল্পবদ্ধ। বক্তা অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা দরং-ওদালগুড়ির (অসম) সাংসদ দিলীপ শইকিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কথাগুলি বলেছেন দিলীপ শইকিয়া। তিনি বলেন, আইএমডিটি আইনটি যে বৈষম্যমূলক আইন ছিল, তা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে। কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক দল এআইডিইউএফ গঠিত হয়েছিল। এই দল রাজ্যের বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।
১৯৮৫ সালের পর থেকে মাঝের প্রায় ১০ বছর বাদ দিলে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অসমে কংগ্রেস শাসন করেছে। ওই সময়সালে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলে এনআরসি-র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও জটিল সমস্যায় পরিণত হয়।
সংখ্যালঘু তোষণ এবং ভোটব্যাংকের রাজনীতি করার পাশাপাশি অবৈধ বাংলাদেশিদের অসমে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে, বলেন দিলীপ। তিনি বলেন, আজ অসমের যুবসমাজ সেই সময়ের অনেক অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে অবগত নয়। তাই এই বিষয়গুলি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা এবং এর গুরুত্ব বোঝানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কংগ্রেসের এবারের নির্বাচনী স্লোগান ‘নতুন বড় অসম’ (নতুন বৃহত্তর অসম) সম্পর্কে কটাক্ষ করে প্রদেশ সভাপতি বলেন, কংগ্রেসের শাসনকালে অসমের সরকারি জমি বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালের শেষদিকে রাজ্যের বিজেপি সরকার বটদ্রবায় শুরু করেছিল উচ্ছেদ অভিযান। এর পর বর্তমান বিজেপি সরকার গুরুদেব মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেবের জন্মস্থান বটদ্রবা থানকে কেন্দ্র করে ২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শ্রীমন্ত শংকরদেব আবির্ভাব ক্ষেত্র’ নির্মাণ করে জনসাধারণকে উৎসর্গ করেছে।
গত পাঁচ বছরে ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন অসম সরকার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বিঘা সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করেছে। অসম কংগ্রেস ‘নতুন বড় অসম’-এর নামে সংখ্যালঘু তোষণের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা দিয়ে অসমের খিলঞ্জিয়া মানুষের প্রাধান্য নষ্ট করার এক পরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দিলীপ শইকিয়া।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের এই নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আগামী দিনের সরকার অসমের খিলঞ্জিয়া জনগণের জাতি-সত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস