
‘রাজা বনাম রাজকুমার’ : অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে বিভক্ত অসম কংগ্রেস, কটাক্ষ চৌহানের
রঙিয়া (অসম), ২৮ মাৰ্চ (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি সরকার অসমকে এক উজ্জ্বল পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বলেন, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। আজ শনিবার রঙিয়ায় বিজেপি-প্রার্থী ভবেশ কলিতার সমর্থনে নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিবরাজ। বলেন, কয়েক দশক ধরে অবহেলা, দুর্নীতি ও অন্যায়ের দরুন অসম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল।
রঙিয়ায় বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে শিবরাজ সিং অসমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একসময় রাজ্যটি ভয়, বিদ্রোহ এবং অত্যন্ত দুর্বল অবকাঠামোর সমস্যায় জর্জরিত ছিল। খারাপ রাস্তা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু এলাকা উপেক্ষিত ছিল। কিন্তু এখন সেগুলো নজিরবিহীন উন্নয়ন, সংযোগ ও স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। ফলে আজ অসম সমগ্র দেশের গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
শিবরাজ সিং চৌহান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অসমের সঙ্গে পাঁচটি ঐতিহাসিক ‘মহাপাপ’-এর কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় অসমকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছিল, যা গোপীনাথ বরদলৈয়ের দৃঢ় প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়। ১৯৬২ সালের চীন আক্রমণের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অসমকে দুর্বল অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন, যার ফলে, বিশেষ করে তেজপুরে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে কংগ্রেস ব্যাপক অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। যা অসমের পরিচয়, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, বিশেষ করে কাজিরঙার মতো সংবেদনশীল অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। এছাড়া তিনি বলেন, কংগ্রেস অসমের মহান ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মান দেয়নি। গোপীনাথ বরদলৈয়ের মতো নেতারা সময়মতো জাতীয় স্বীকৃতি পাননি। সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকা যথাযথ সম্মান পেয়েছেন অনেক পরে, বিজেপি সরকারের উদ্যোগে।
অসম আন্দোলনের সময় ছাত্রদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। কংগ্রেসের ব্যাপক সমালোচনা করে চৌহান বলেন, দলটি ঐতিহাসিকভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ করেছে। আজও ‘প্যারাশুট ল্যান্ডিং’-এর মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশের সংস্কৃতি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ পরিবারের মেধাবীরা বঞ্চিত হন, আর বংশানুক্রমিকভাবে সুবিধাভোগী নেতাদের পরিবারই ক্ষমতা পায়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, কংগ্রেস গভীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। অসমে এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘রাজা বনাম রাজকুমার’-এর ক্ষমতার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা রাজনীতিতে প্রবেশের পর দলের অস্থিরতা বেড়েছে, বহু নেতা দূরত্ব বজায় রাখছেন, অনেকে দল ছাড়ছেন। আজ কংগ্রেস বিভক্ত, দিশাহীন এবং জনমানস থেকে বিচ্ছিন্ন, বলেন শিবরাজ সিং।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্যের প্রসঙ্গে চৌহান বলেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর ফলেই অসমে এই পরিবর্তন এসেছে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের বিস্তার, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে অসম দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
চা বাগানের শ্রমিক সহ পশ্চাদপদ মানুষের জন্য ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখল রোধে সরকারের পদক্ষেপের কথাও তিনি বলেছেন। তিনি বলেন, অসমের নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
সমগ্র উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে স্থায়ী বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অস্থায়ী বা অপ্রতুল বাসস্থানে থাকতে বাধ্য না-হয়।
নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গৃহিণী মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিভিন্ন প্রকল্প সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যা পরিবারকে শক্তিশালী করবে এবং সামগ্রিক সমাজের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে অসম স্থায়ী উন্নয়ন, মর্যাদা ও সুযোগের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভর এবং সমৃদ্ধ ভারতের বিকাশে অসমের উন্নয়ন প্রতিফলিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে বিজেপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস