বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে রাস্তায় ঝাড়ু দেবে গুন্ডা-মাফিয়ারা: যোগী আদিত্যনাথ
আসানসোল, ১৬ এপ্রিল (হি.স.): উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার করেন। বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভা করেন তিনি। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ


আসানসোল, ১৬ এপ্রিল (হি.স.): উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার করেন। বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভা করেন তিনি। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একযোগে নিশানা করেন বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলকে। পাশাপাশি বিজেপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, টিএমসি-র গুন্ডা, মাফিয়া বা কোনও মৌলানার কথায় ভয় পাবেন না। ডাবল-ইঞ্জিন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে দেখবেন এরাই তখন আপনাদের তোষামোদ করছে, আর বাংলার রাস্তায় ঝাড়ু দিচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, এখানে আমার কর্মসূচি নির্ধারিত হওয়ার পর তৃণমূলের গুন্ডারা লোকজনকে হেনস্থা করতে শুরু করে। সভাটি যাতে না হয়, সেজন্য তারা বিজেপির পতাকাও ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। অরিজিৎ নামের অর্থ হলো যিনি শত্রুকে পরাজিত করতে পারেন। সুতরাং আপনারা অরিজিৎকে জেতান। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার আনুন; টিএমসি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে দ্বিগুণ গতিতে। নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একমাত্র নিশ্চয়তা হলো বিজেপি।

তিনি এও বলেন, টিএমসি গত ১৫ বছর ধরে বাংলাকে সংকটে ফেলেছে। এই রাজ্যকে সন্ত্রাস, মাফিয়াদের শাসন, তোলাবাজি ও দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছে, তাই তাদের আর প্রয়োজন নেই। এইসব লোকেরা সাধারণ মানুষ, যুবক এবং মহিলাদের জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। টিএমসি বালি মাফিয়া, কয়লা মাফিয়া এবং জমি মাফিয়ার জন্ম দিয়েছে। টিএমসি-র গুন্ডারা কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে। যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দেন, বিজেপি বাংলায় দাঙ্গা, ভয়, নৈরাজ্য এবং মাফিয়া শাসনের অবসান ঘটাবে।

যোগী আদিত্যনাথ জানান, ৯ বছর আগে উত্তর প্রদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। প্রায় প্রতিদিনই দাঙ্গা হতো। ব্যবসায়ী, মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। ব্যাপক গুন্ডামি হতো এবং মাফিয়াদের আধিপত্য ছিল। জনকল্যাণমূলক তহবিল লুট হতো, কিন্তু ডাবল-ইঞ্জিন বিজেপি সরকার এসে এর সমাধান করেছে। উত্তর প্রদেশ আমূল বদলে গেছে। সেখানে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। সেখানে কোনও নৈরাজ্য নেই। কিন্তু বাংলায় উৎসবের আগে গো-হত্যা এবং দাঙ্গা হয়। উত্তর প্রদেশে এখন মাফিয়াদের হাড় ভেঙে দেয় বুলডোজার। মাফিয়াদের সম্পত্তি নিয়ে গরীবদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়। উত্তর প্রদেশে কোনও দাঙ্গা হয় না; সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক আছে। রাম জন্মভূমির জন্য একটি আন্দোলন শুরু করতে হয়েছিল। টিএমসি-র সহযোগী দল সমাজবাদী পার্টি-র সরকার রাম ভক্তদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। রাম নাম এবং দুর্গাপূজা নিয়ে যেমন মমতা ব্যানার্জির বিরক্তি, আগে উত্তর প্রদেশেও একই রকম ছিল। উত্তর প্রদেশে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের সবচেয়ে বড় মন্দির নির্মিত হয়েছে। কংগ্রেস, এসপি এবং টিএমসি এটা থামাতে পারেনি, কারণ মোদীর থাকলে সবকিছুই সম্ভব।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় কোনও দাঙ্গা হবে না। আমরা গো হত্যা হতে দেব না, হিন্দুদের বিভক্ত হতেও দেব না। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর বামেরা, এবং গত ১৫ বছর ধরে টিএমসি রাজ্যের পরিচয় সংকট তৈরি করেছে। একসময় বাংলা সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে দেশকে পথ দেখাত, কিন্তু একে অপরাধের রাজধানীতে পরিণত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলা উন্নয়নমুখী ছিল। এই রাজ্য ছিল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কৃষকেরা সুখী ছিল, যুবকদের চাকরি ছিল, এবং মাছ ও চালের উৎপাদন বৃদ্ধি হতো। কিন্তু কংগ্রেস, বাম এবং টিএমসি রাজ্যটিকে দুর্নীতি, ভয় এবং নৈরাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। মাছ ও চালের উৎপাদন কমে গেছে। মাফিয়ারা রাজ্যের সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে, যুবকদের কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। উত্তর প্রদেশে প্রতি কেজি আলুর দাম ১৫-১৬ টাকা, অথচ বাংলায় তা মাত্র এক থেকে দেড় টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, বাংলা বরাবরই অনুপ্রেরণার ভূমি। এই ভূমি থেকেই ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীত হয়েছে। বন্দে মাতরমের ১৫০তম বার্ষিকীতে বাংলার এই ভূমি টিএমসি-র নৈরাজ্য থেকে মুক্তির ডাক দিচ্ছে। এই ভূমিই রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী প্রণবানন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, অরবিন্দ ঘোষ এবং জন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মতো জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদদের জন্ম দিয়েছে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির দেখা স্বপ্ন এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। কাশ্মীরেও ভারতীয় আইন ঠিক সেভাবেই প্রযোজ্য হবে, যেভাবে বাংলা, বিহার এবং উত্তর প্রদেশে হয়।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande