
গুয়াহাটি, ২ এপ্রিল (হি.স.) : ‘ব্যতিক্রম গ্রুপ’-এর জনপ্রিয় উদ্যোগ ‘ফেস অব দ্য মান্থ’-এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে সত্রীয়া নৃত্যশিল্পী অনন্যা মহন্ত যুগনারাইনকে।
আজ বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির পানবাজারে অবস্থিত হোটেল মেফ্লাওয়ারে ‘ব্যতিক্রম গ্রুপ’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ফেস অব দ্য মান্থ’-এর ষোড়শ সংস্করণের ‘রেসপেকট উম্যানহুড’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তাঁদের জীবনের গল্প তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘বহুমুখী প্রতিভা’ দলের সুমধুর বরগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। এর পর সুপর্ণা চক্রবর্তীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৰ্গ যথাক্ৰমে অসমের ঐতিহ্যবাহী মুগা রেশম শিল্পের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ফ্যাশন উদ্যোক্তা শম্পা দাস, সত্রীয়া নৃত্যের প্রখ্যাত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী অনন্যা মহন্ত যুগনারাইন, তাঁর পিতা লীলা কান্ত মহন্ত, সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত দিব্যরেখা গোস্বামী, ড. সৌমেন ভারতীয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, ‘‘ব্যতিক্রম গ্রুপ সবসময় নারীর শক্তি, মর্যাদা ও সত্ত্বাকে সম্মান জানিয়ে এসেছে। ‘ফেস অব দ্য মান্থ’ শুধু একটি সম্মান নয়, এটি এমন একটি মঞ্চ যেখানে অধ্যবসায়, প্রতিভা এবং উদ্দেশ্যমূলক জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়। আমাদের লক্ষ্য সমাজকে অনুপ্রাণিত করা, ব্যক্তিকে শক্তিশালী করা এবং সংস্কৃতি ও সমাজে অবদান রাখা মানুষদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদান করা।’’
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সত্রীয়া নৃত্যশিল্পী অনন্যা মহন্ত যুগনারাইনের সঙ্গে আন্তরিক আলাপচারিতা। তিনি তাঁর শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সত্রীয়া আমার কাছে শুধু একটি নৃত্য নয়, এটি আমার সত্তার অংশ। অসমের সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হওয়ায় এই শিল্প আমার পরিচয় ও আত্মার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। লন্ডনে বসবাস করলেও আমি আমার শিকড়ের সঙ্গে অটুটভাবে যুক্ত। প্রতিটি পরিবেশনা আমার মাটি, আমার মানুষ এবং আমার ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম।’
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করে ক্রিয়েটিভ ডান্স অ্যাকাডেমি, সুরধ্বনি ডান্স ডুও (আদ্রিকা কার ও মহেশ্বতা কার), সুপর্ণা চক্রবর্তী এবং ‘দ্য মায়াবিনী কালচারাল গ্রুপ’-এর কোরাস পরিবেশনা। এই পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে আরও বর্ণাঢ্য করে তুলেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস