তৃণমূল জমানায় বিপুল প্রতিপত্তি, ক্ষমতার বদল হতেই কাটমানি ফেরতের দাবিতে নেতাদের বাড়িতে পোস্টার
আরামবাগ, ২৫ মে (হি.স.): একসময় জরাজীর্ণ মাটির বাড়ি থেকে বর্তমানে তিনতলা অট্টালিকা। তৃণমূল আমলে পদে বসেই উল্কার গতিতে উত্থান। এক দশকে এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে দুই ভাই। রাজ্যে পালাবদল হতেই কাটমানি ও দুর্নীতির টাকা ফেরত চেয়ে সোমবার এবার ওই দুই তৃণমূল
কাটো মানির টাকা ফেরত চেয়ে  তৃণমূল নেতার বাড়িতে পোস্টার


আরামবাগ, ২৫ মে (হি.স.): একসময় জরাজীর্ণ মাটির বাড়ি থেকে বর্তমানে তিনতলা অট্টালিকা। তৃণমূল আমলে পদে বসেই উল্কার গতিতে উত্থান। এক দশকে এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে দুই ভাই। রাজ্যে পালাবদল হতেই কাটমানি ও দুর্নীতির টাকা ফেরত চেয়ে সোমবার এবার ওই দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে পড়ল পোস্টার। এমনকী দুই ভাইয়ের অত্যাচারের কাহিনি শোনাতে গিয়ে ফিরে এল সন্দেশখালির স্মৃতিও। গোঘাটের শ্যামবাজারে এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

​দাদা শাহাবুদ্দিন খান একসময় গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ব্লক তৃণমূলের সভাপতির পদ পান। তারপর কয়েক বছর কার্যত গোটা গোঘাট শাসন করতে থাকেন। দাদার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান ভাই গিয়াসউদ্দিনের। ২০১৮ সালে শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান পদে বসার পর থেকেই তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান। মাটির বাড়ি ছেড়ে তৈরি হয় তিনতলা পেল্লাই বাড়ি। পাশেই এক নিকটাত্মীয়ের প্রাসাদোপম বাড়িও তাঁরই তৈরি করে দেওয়া বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অন্যদিকে দাদা শাহাবুদ্দিনের গ্রামে একতলা পাকা বাড়ির পাশাপাশি আরামবাগ শহরেও রয়েছে বিশাল বাড়ি। দুই ভাইয়ের এই প্রতিপত্তির উৎস কাটমানি, তোলাবাজি ও দুর্নীতির টাকা থেকেই বলে দাবি এলাকার মানুষের। গোঘাটের শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের শান্তিপুর থেকে পিচ রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই চোখে পড়বে অট্টালিকা সম এই বাড়িগুলি।

​শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তিই নয়, তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে বহু মহিলাকেও। কোনও মহিলার উপর তাদের নজর পড়লেই রাতে তাদের জন্য ঘরের দরজা খুলে রাখতে হতো বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন এলাকার মানুষ। ওদের ভয়ে রাস্তা দিয়ে মাথা তুলে চলাফেরা করতে পারতেন না কেউ। এমনকী নেতারা বাজারে গেলে বিনা পয়সায় সবজির ব্যাগ ভরে দিতে হতো বিক্রেতাদের। প্রতিবাদ করলেই জুটত মারধর, ঘর ভাঙচুর, আগুন।

​রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার মুখ খুলছেন এলাকার মানুষ। তবে দুই তৃণমূল নেতার দাবি, তাঁদের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, সাধারণ মানুষের টাকা ফেরানো হোক। ক্ষমতার বদল হতেই যেন গোঘাটের শ্যামবাজারের গ্রামে গ্রামে ভয় আউট, ভরসা ইন।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande