
পেঁচারথল (ত্রিপুরা), ২৫ মে (হি.স.) : ভগ্নপ্রায় রাস্তা, অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং পানীয় জলের তীব্র সংকটের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল বিধানসভা এলাকার মাকুমছড়া গ্রামে। সোমবার সকাল থেকে কাঞ্চনপুর-লালজুরী ভায়া ধর্মনগর যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার শতাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মৌলিক সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দেন আন্দোলনকারীরা। সরাসরি অভিযোগের তীর যায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়িকা সান্ত্বনা চাকমার দিকেও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে মাকুমছড়া দুই নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো পরিবারের। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় ভরে যায় রাস্তা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই নিত্য সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এলাকায় সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ই-রিক্সা কিংবা ছোট গাড়িও গ্রামে ঢুকতে চায় না বলে অভিযোগ।
জনৈকা আন্দোলনকারী মহিলা জানান, বহুবার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে সমস্যার কথা জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবছর রাস্তা মেরামতের নামে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন সান্ত্বনা চাকমা। কিন্তু সরকার গঠনের এতদিন পরও এলাকায় এসে মানুষের সমস্যার খোঁজ নেননি তিনি।
শুধু রাস্তা নয়, পানীয় জলের সঙ্কট এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবার কারণেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, প্রতিদিনের জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই এদিন সমস্ত কাজকর্ম ফেলে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে সামিল হতে হয়েছে তাঁদের।
অবরোধের জেরে কাঞ্চনপুর থেকে লালজুরী ভায়া ধর্মনগর সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই ধারে আটকে পড়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচলতি সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লালজুরী ব্লকের বিএসসি চেয়ারম্যান অজন্ত চাকমা সহ পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অজন্ত চাকমা জানান, গ্রামবাসীদের দাবির ভিত্তিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আপাতত রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হবে এবং সেই কাজে অংশগ্রহণকারী গ্রামবাসীদের মজুরি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে প্রশাসনের এই প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া বাস্তবে কোনও উন্নয়ন হয়নি। এবার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরোধ চলার পর প্রশাসনের লিখিত আশ্বাসে অবশেষে অবরোধ প্রত্যাহার করেন গ্রামবাসীরা। তবে এলাকাবাসীর স্পষ্ট বার্তা, দ্রুত কাজ শুরু না হলে ফের আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ