বাকড়া জমি কাণ্ডে চাষিদের ক্ষোভ, বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক—ন্যায়ের দাবি জোরদার
ঝাড়গ্রাম, ২৮ মে (হি.স.) : বাকড়া এলাকার জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা ঘিরে ফের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের একাংশ। বহুদিন ধরে তদন্ত চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলা
বাকড়া জমি কাণ্ডে চাষিদের ক্ষোভ, বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক—ন্যায়ের দাবি জোরদার


ঝাড়গ্রাম, ২৮ মে (হি.স.) : বাকড়া এলাকার জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা ঘিরে ফের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের একাংশ। বহুদিন ধরে তদন্ত চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক রাজেশ মাহাতো।

বৈঠকে জমির নথি সংক্রান্ত অভিযোগ, তদন্তের বর্তমান অবস্থা, আদালতে চলা মামলা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর বাকড়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির মালিকানা বদল ও রেজিস্ট্রি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, বহু চাষির জমির দলিল অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গিয়েছে। একই জমির একাধিক দলিল তৈরির ঘটনাও সামনে আসে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসন তদন্ত শুরু করে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নামে। ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা জেল হেফাজতেই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

চাষিদের অভিযোগ, তদন্ত চললেও আট মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা এখনও কাটেনি। কিছু পরিবার দাবি করেছে, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি দেখিয়েও জমি হস্তান্তরের চেষ্টা হয়েছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সূত্রের খবর, হাইকোর্টে একাধিক রিট পিটিশন দাখিল হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা বেশ কিছু ভুয়ো দলিল চিহ্নিত করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি আদালতের তরফে অভিযোগকারী পরিবারগুলিকে হয়রানি বা উচ্ছেদের চেষ্টা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লিখিত আবেদন বিধায়ক রাজেশ মাহাতোর হাতে তুলে দেন।

বৈঠকের পর রাজেশ মাহাতো বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছ থেকে সমস্ত তথ্য ও নথি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হবে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই যাতে প্রকৃত মালিকরা ন্যায়সঙ্গত সমাধান পান, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande