
ঝাড়গ্রাম, ২৮ মে (হি.স.) : ঝাড়গ্রামে বন ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য নজির গড়লেন প্রাক্তন বনকর্তা সমীর মজুমদার। কমিউনিটি এফএম রেডিওর মাধ্যমে টানা সাড়ে চার বছর ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগে তাঁর সাপ্তাহিক লাইভ অনুষ্ঠান সম্প্রতি ৫৫০ ঘণ্টার মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
গত বুধবার ‘রেডিও মিলন ৯০.৪ এফএম’-এ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এই সাফল্য অর্জিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগ থেকে অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (এডিএফও) পদে অবসর নেন সমীর মজুমদার। অবসরের পর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বন, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এই সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান শুরু করেন।
প্রতি বুধবার সকালে প্রায় দু’ঘণ্টার লাইভ টক শো-তে রেডিও জকি ও সঞ্চালক সায়নদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ইতিমধ্যেই ৩৫০টিরও বেশি এপিসোড সম্প্রচারিত হয়েছে।
জঙ্গলমহলে হাতি-মানব সংঘাত বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রতি বছর হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এই অনুষ্ঠানগুলিতে হাতির চলাচল এলাকায় সতর্কতা, জঙ্গলে প্রবেশের ঝুঁকি এবং হাতির কাছে গিয়ে ছবি তোলা বা সেলফি নেওয়ার বিপদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়।
সমীর মজুমদারের মতে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে ভোরে মাঠে যাওয়ার সময় বা জঙ্গলে কাঠ ও পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে। এছাড়াও বনাগ্নি, অবৈধ গাছ কাটা এবং শিকার উৎসবের নামে প্রাণিহত্যার বিরুদ্ধেও নিয়মিত সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস, বিশ্ব হাতি দিবস ও বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষেও বিশেষ পর্ব সম্প্রচার করা হয়।
রেডিও জকি সায়নদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জনস্বার্থে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয় এবং ‘রেডিও গার্ডেন’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও তা শোনা যায়।
সমীর মজুমদার বলেন, “অবসরের পরেও সমাজের জন্য কিছু করতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো