
নয়াদিল্লি, ৩০ মে (হি.স.): কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে আগামী ১ জুন থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে 'খেত বাঁচাও' অভিযান। এই কর্মসূচির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
এদিন বৈঠকে তিনি জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে সারের সুষম ও যুক্তিযুক্ত ব্যবহার, আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে কৃষকদের সময়োপযোগী পরামর্শ দান, পঞ্চায়েত স্তরে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সরাসরি গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া।
বৈঠকে চৌহান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন যে, রাসায়নিক সারের, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যহীন ব্যবহার কমানোই হবে এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। কৃষকদের মাটির পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট)-ভিত্তিক সুষম ও সঠিক পরিমাণে সার ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হবে। এর পাশাপাশি সবুজ সার, জৈব ও জৈব-পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আবহাওয়া সংক্রান্ত যে সমস্ত উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকদের বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া হবে। তাঁরা কী করবেন, কী করবেন না, কোন ফসল চাষ করবেন, কোথায় ফসলের বৈচিত্র্যায়ন ঘটাবেন এবং কম জল বা ঝুঁকির পরিস্থিতিতে কোন বিকল্পগুলি বেছে নেওয়া ভালো হবে—এই সমস্ত বিষয়ে কৃষকদের খেত-স্তরে গিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পঞ্চায়েত স্তরে এই অভিযানকে একটি মজবুত ভিত্তি দেওয়া হবে। পঞ্চায়েত স্তরে কৃষিকাজের আধুনিক যন্ত্রাংশ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা এবং যেখানে সম্ভব সরকারি কর্মসূচির প্রত্যক্ষ সুবিধা (ডাইরেক্ট বেনিফিট) এই অভিযানের সঙ্গেই যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিবরাজ সিং চৌহান।
তিনি জানান, এই অভিযানকে কেবল কোনো একটি সরকারি দফতরের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। এর জন্য বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে এই অভিযান একটি প্রশাসনিক কর্মসূচির গণ্ডি পেরিয়ে এক বিরাট গণ-অংশগ্রহণের মডেলে পরিণত হতে পারে।
বৈঠকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের জন্য 'কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র' -কে সমস্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য দেশজুড়ে ১,৬০০-রও বেশি টিম গঠন করা হয়েছে। যে ১০০টি জেলায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, সেগুলির জন্য ৫০০টি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে কেভিকে, আইসিএআর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী এবং কৃষি দফতরের আধিকারিকরা থাকবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চৌহান বলেন, এই অভিযান কেবল সার ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধাও সরাসরি খেত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড , পিএম-কিষাণ যোজনা থেকে বাদ পড়া উপভোক্তাদের এই তালিকায় যুক্ত করা, ডাল ও তৈলবীজ মিশন, অয়েল পাম, কটন মিশন, মাটির স্বাস্থ্য ও জল-সংরক্ষণ এবং অঞ্চল-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শের মতো বিষয়গুলিকে সমন্বিত রূপ দেওয়া হবে, যা এই অভিযানকে বহুমুখী ও কার্যকর করে তুলবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি