অন্নপূর্ণা ভান্ডারের পর নাগরিক পরিষেবা ও পুর-স্বচ্ছতায় বড় বদল, চালু হলো ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’
কলকাতা, ৩০ মে (হি.স.) : অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের পর রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার নাগরিক পরিষেবা এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল। স্বচ্ছ ও উন্নত বাংলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে নগর
চালু হলো ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’


কলকাতা, ৩০ মে (হি.স.) : অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের পর রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার নাগরিক পরিষেবা এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল। স্বচ্ছ ও উন্নত বাংলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হলো। প্রথম দফায় রাজ্যের ১০টি নির্বাচিত পুরসভা এলাকায় এই অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়া হবে।

নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই উচ্চাভিলাষী ডিজিটাল উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যকে আবর্জনামুক্ত ও আধুনিক করে তুলতে সরকার এবার প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সহযোগী করতে চলেছে। রাস্তাঘাট, ড্রেন ও পাবলিক প্লেসে জমে থাকা আবর্জনার মতো নাগরিক সমস্যার সমাধানে এই অ্যাপ অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠবে।

‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

কোনো রাস্তা, গলি বা সর্বসাধারণের ব্যবহারের স্থানে আবর্জনা জমে থাকলে, নাগরিকরা সরাসরি এই অ্যাপের মাধ্যমে সেই আবর্জনার ছবি তুলে লাইভ লোকেশনসহ আপলোড করতে পারবেন।

ছবি ও লোকেশনসহ অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়া মাত্রই তা সংশ্লিষ্ট পুরসভার কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাবে। এরপর প্রশাসন অবিলম্বে পদক্ষেপ করে এলাকা পরিষ্কার করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে।

পুরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নাগরিকদের কর্তব্য এবং পুরসভার নিয়মকানুন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যও এই অ্যাপে উপলব্ধ থাকবে।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকার কোনো নিয়মই হঠাৎ করে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না। সেই কারণে প্রাথমিক স্তরে প্রথম তিন মাস সাধারণ মানুষকে এই অ্যাপ এবং নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী আগস্ট মাস থেকে পরবর্তী তিন মাস রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি, শহরগুলিতে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে আধুনিক ডাস্টবিন বসানোর একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।”

তবে সরকার এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শহর নোংরাকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। সচেতনতা অভিযান শেষ হওয়ার পর সর্বসাধারণের ব্যবহারের স্থানে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেললে, রাস্তায় থুতু ফেললে অথবা পানের পিক দিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে মোটা টাকা জরিমানা করা হবে। সরকারের বিশ্বাস, এই ডিজিটাল উদ্যোগ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান শহুরে ও গ্রামীণ বাংলায় এক নতুন নাগরিক সংস্কৃতির জন্ম দেবে এবং রাজ্যকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুসংগঠিত ও আধুনিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande