ভারত এখন নতুন সামুদ্রিক যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে : প্রধানমন্ত্রী
কলকাতা, ২১ জুন (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার সকালে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ—''আইএনএস দোনাগিরি'', ''আইএনএস সংশোধক'' এবং ''আইএনএস অগ্রয়''-এর কমিশনিং বা নৌবহরে অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ক
প্রধানমন্ত্রী


কলকাতা, ২১ জুন (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার সকালে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ—'আইএনএস দোনাগিরি', 'আইএনএস সংশোধক' এবং 'আইএনএস অগ্রয়'-এর কমিশনিং বা নৌবহরে অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কলকাতার 'গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স' এই জাহাজগুলো নির্মাণ করেছে। এগুলোতে ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনীতে আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দোনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২১ জুন, ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’ হিসেবেও পালিত হচ্ছে। এটি এক আনন্দদায়ক কাকতালীয় বিষয়, এই বিশেষ দিনেই আমরা ভারতের সর্বাধুনিক হাইড্রোগ্রাফি জাহাজ ‘আইএনএস সংশোধক’-কে নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছি। আমি ভারতীয় নৌবাহিনী এবং এই প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত সকল বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর আগে, যখন আমরা ‘আইএনএস বিক্রান্ত’-কে জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলাম, তখন বিশ্বের সামনে ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা তুলে ধরেছিলাম। ‘আইএনএস বিক্রান্ত’ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই যাত্রা কেবল নতুন যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় নয়; এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরশীলতারই এক নিদর্শন। এখন ‘আইএনএস অগ্রয়, ‘আইএনএস দোনাগিরি’ এবং ‘আইএনএস সংশোধক’ এই যাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে জন্য ভারত একটি নতুন লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত এবং এমআরও-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কেবল ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না। আমাদের সামরিক শক্তিকে বিশ্বের কাছে কেবল একটি বাজার হিসেবে গণ্য করা যায় না। প্রকৃত স্বীকৃতি কেবল বাজার হওয়ার মধ্যে নয়, বরং আত্মনির্ভরশীলতার মধ্যেই নিহিত। ভারত ‘নির্মাতা’ (স্রষ্টা) হয়ে উঠতে চায় এবং নির্মাতা হিসেবে আমরা ‘নির্ণায়ক’ (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী)-এর ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হব। আমরা এই লক্ষ্যেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি। গত কয়েক বছরে ভারতীয় নৌবাহিনী ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ বা ভারতে তৈরি ৪০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির নামানুসারে এই বন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। ভারত এখন এক নতুন সামুদ্রিক যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং এতে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখানে রয়েছে বন্দর ও শিল্পের সক্ষমতা; এখানে রয়েছে মেধা ও দক্ষতা; এবং সামুদ্রিক অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতাও এখানে বিদ্যমান। আমি নিশ্চিত, আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ব্লু ইকোনমি (সামুদ্রিক অর্থনীতি), সামুদ্রিক উৎপাদন শিল্প, লজিস্টিকস এবং উপকূলীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ




 

 rajesh pande