
হাফলং (অসম), ১৫ আগস্ট (হি.স.): দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শনিবার উৎসাহ-উদ্দীপনা ও দেশাত্মবোধের আবহে ডিমা হাসাও জেলায় পালিত হল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। হাফলংয়ের এন এল দাওলাগুপু স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গর্লোসা। তাঁর সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার উপায়ুক্ত গায়ত্রী দেবীদাস হাইলিঙ্গে, এবং পুলিশ সুপার রিপুনজয় কাকতি। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধের আবেগের পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। ২৬ অসম রাইফেলসের মনোজ্ঞ ব্যান্ড প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধ্যক্ষ মোহিত হোজাই, কার্যনির্বাহী সদস্য দনপাইনন থাওসেন, জেলা পরিকল্পনা পর্ষদের সহ-সভাপতি ধৃতি থাওসেন, পরিষদের প্রধান সচিব পার্থসারথি জহরি, রাজিত কারিগাপসা-সহ পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্য কার্যবাহী সদস্য দেবোলাল গর্লোসা ডিমা হাসাওয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী ডিমাসা ভাষাকে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ডিমাসা ভাষার এই সরকারি স্বীকৃতিকে তিনি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিমা হাসাওয়ের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজ্যের সেরা তিন জেলার মধ্যে ধারাবাহিক ভাবে জায়গা করে নিচ্ছে ডিমা হাসাও। হাইস্কুল লিভিং সার্টিফিকেট (এইচএসএলসি) পরীক্ষাতেও জেলা একাধিক বার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ‘সুপার ৩০’-এর মতো বিনামূল্যের কোচিং কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা চিকিৎসা, অসামরিক প্রশাসন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে বলেও তিনি জানান। ডিমা হাসাওয়ের বহু তরুণ-তরুণী অসম পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এপিএসসি) এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন গর্লোসা। পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রেও জেলার তরুণ প্রতিভারা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে পুরস্কার ও সম্মান অর্জন করে ডিমা হাসাওয়ের নাম উজ্জ্বল করছেন বলে তিনি জানান। জেলার শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিষদের দলগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন সিইএম। এই অগ্রগতির পিছনে বিধায়ক রূপালী লাংথাসার দিকনির্দেশনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ডিমা হাসাওয়ের এই সাফল্য কোনও একক ব্যক্তির নয়, বরং জেলার মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস, অধ্যবসায় ও দৃঢ় সংকল্পের ফল। স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে প্রশাসন, স্বশাসিত পরিষদ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এন. এল. দাওলাগুপু স্পোর্টস কমপ্লেক্স পরিণত হয় জাতীয়তাবোধ ও উৎসবের মিলনস্থলে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব