পুলিশ কর্তা নবজিৎ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার একাধিক
হাফলং (অসম), ১৬ আগস্ট (হি.স.): ডিমা হাসাও জেলার লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথা সাব-ইন্সপেক্টর নবজিৎ দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, এটি নিছক কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; বরং মাদক পাচারে
Nobojit Das


হাফলং (অসম), ১৬ আগস্ট (হি.স.): ডিমা হাসাও জেলার লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথা সাব-ইন্সপেক্টর নবজিৎ দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, এটি নিছক কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; বরং মাদক পাচারে বাধা দেওয়ার কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মেরে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একাধিক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে|

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে লাইসং এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন। দায়িত্ব পালন করার সময় একটি গাড়ি নবজিৎ দাসকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট অ্যান্ড রান হিসেবে দেখা হলেও তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনে মাদক কারবারিদের যোগসূত্রের বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নবজিৎ দাস এলাকায় মাদক পাচার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মাদক সড়কপথে পাচারের ক্ষেত্রে তিনি বাধা সৃষ্টি করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে গাড়ি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে। এই ঘটনায় নাকা চেকিংয়ের সময় নবজিৎ দাসকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটির মালিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে গাড়িটির মালিকানা ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে নঁগাও জুরিয়ায় মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে থাকা সেলিমুদ্দিন ইসলাম। তদন্তকারীরা তাঁকে এই ঘটনার সম্ভাব্য ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে সন্দেহ করছেন। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে সেলিমুদ্দিন ইসলামের ভাই মহিদুল ইসলাম, তাঁর বাবা আব্দুল কুদ্দিস ফারাজী এবং আরও দুই সহযোগী—মাফাজ্জুল ও রুকসানা খাতুন—কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও ব্যবসা চললেও নবজিৎ দাস দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছিল। মাদক পাচারে বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দেরও সন্দেহ। তদন্তকারীরা এখন মূলত কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন—নবজিৎ দাসকে আগে থেকেই টার্গেট করা হয়েছিল কি না, গাড়িটি পরিকল্পিতভাবে তাঁর দিকে চালানো হয়েছিল কি না, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং মাদক পাচারের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না। পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও তদন্তকারী মহল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। উল্লেখ্য, ডিমা হাসাও জেলার লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন প্রয়াত এসআই নবজিৎ দাস। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুলিশ মহল এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি সত্যিই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ডিমা হাসাওর বাসিন্দা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেলিমুদ্দিন ইসলাম বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে পুলিশের সন্দেহ ও তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। উল্লেখ্য গত ১৪ আগষ্ট রাতে লাইসংয়ে নাকা চেকিংয়ের সময় এএস-০২-এজে-৪৩৩৫ নম্বরের একটি গাড়ি এসআই নবজিৎ দাস (৩৮)-কে ধাক্কা মারে যার ফলে পুলিশের ওই এসআই গুরুতর ভাবে জখম হয় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তার সঙ্গে নাকা চেকিংয়ে থাকা অনান্য পুলিশ কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাফলং সিভিল হাসপাতালে নিয়ে আসে যদি ও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করে। জানা গিয়েছে এসআই নবজিৎ দাসের স্ত্রী ও ছয় মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande