
কলকাতা, ২৮ আগস্ট (হি. স. ) : স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একটি সর্বভারতীয় সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা (এসএসএস)। জাতীয়তাবাদী, রাষ্ট্রবাদী, ভারতবর্ষের সুপ্রাচীন সনাতনী ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল সকল চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র সকলকে একই মঞ্চে নিয়ে আসাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ।
শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংগঠনের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রকাশ কুমার হাজরা জানালেন ‘বিগত অতীতে এই আমরা আমাদের পেশাগত বা সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছি। অদূর ভবিষ্যতে এইসব ক্ষেত্রে সংগঠন হিসাবে বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান আমাদের অন্যতম কর্মসূচী।‘
সম্মেলনে জেরিয়েন্টোলজি স্পেসালিস্ট ডা. দীপংকর দেবনাথ বলেন যে আমাদের লক্ষ্য হল:
১. সহজলভ্য, আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা: শহর, গ্রাম, আর্থিক অবস্থা নিরপেক্ষ সকলের জন্য এই মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান।
২. ন্যায়সঙ্গত পরিষেবা: দেশের সব অঞ্চলে সব ধরণের বাধা কাটিয়ে সমানভাবে সবার জন্য আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছান নিশ্চিত করা।
৩. মর্যাদা রক্ষা: প্রতিটি রোগীর সাথে অত্যন্ত সম্মান, সহানুভূতি এবং পেশাদার সততার সাথে আচরণ করা। পরিষেবা দান নয়, জনগণের অধিকার।
৪. স্থানীয় ভাবে ক্ষমতায়ন: চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চাহিদা মিটিয়ে স্বনির্ভর করা।
৫. উন্নত প্রতিরোধমূলক সচেতনতা: একটি জাতিকে সুস্থ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল অসুস্থতার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করা।
৬. ঝুঁকি প্রশমন: প্রাথমিক, সতর্কতা লক্ষণ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
৭. স্বাস্থ্যে স্বনির্ভরতা: নাগরিকদের কার্যকর স্বাস্থ্য সাক্ষরতা দিয়ে যাতে তারা পুষ্টি, মাতৃত্বকালীন যত্ন এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অবহিত হয় ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৮. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা: স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুল তথ্য মোকাবিলা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত অভ্যাস প্রচারের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কর্মশালা এবং ডিজিটাল সচেতনতা প্রচার শুরু করা।
৯. একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার লক্ষ: প্রকৃত স্বাস্থ্য হল শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার প্রতি একটি চলমান অঙ্গীকার।
১০. সামগ্রিক সুস্থতা: পুষ্টি, মননশীলতা এবং দৈনন্দিন রুটিন সহ সুষম জীবনযাপনের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নীতিগুলিকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে যুগোপযোগী করে প্রচার করা।
১১. সক্রিয় জীবনযাপন: ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনযাত্রা-সম্পর্কিত রোগগুলির বৃদ্ধি রোধ করতে দৈনিক শারীরিক রুটিন, ফিটনেস উদ্যোগ এবং কমিউনিটি যোগ কর্মসূচিকে উৎসাহিত করা।
১২. পরিবেশগত স্বাস্থ্য: একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর বাস্তুতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পরিষ্কার পরিবেশ, যথাযথ স্যানিটেশন এবং সন্মিলিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।
১৩. ব্যাপক চিকিৎসা প্রচার ও সমাজকল্যাণ: সমাজের দুর্বলতম শ্রেণীর সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা।
১৪. ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে সরাসরি বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির, রোগ নির্ণয় এবং ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ভ্যানের ব্যবস্থা করা।
১৫. পেশাদারদের সংহতি: একটি চটপটে, দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেখানে ডাক্তার, নার্স, গবেষক এবং মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদাররা সহজেই তাদের সময় এবং দক্ষতা স্বেচ্ছায় প্রদান করতে পারেন।
১৬. বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ: জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার সময় চিকিৎসা, ত্রাণ, খাদ্য এবং স্যানিটারি সম্পদের দ্রুত বিতরণ নিশ্চিতকারি একটি বিপর্যয় মোকাবিলা ইউনিট তৈরি ।
১৭. একটি স্বাস্থ্যকর, শক্তিশালী সমাজ গঠন: পেশাদার চিকিৎসা দক্ষতাকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যকরী শক্তির সাথে একত্রিত করে, সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা সেবার একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিকাঠামো তৈরি করে। আমরা বিশ্বাস করি যে শারীরিক স্বাস্থ্য একটি শক্তিশালী সমাজের মৌলিক ভিত্তি। যখন ব্যক্তি সুস্থ থাকে, তখন পরিবার সমৃদ্ধ হয়, সম্প্রদায়গুলি উন্নতি লাভ করে এবং জাতি কাঠামোগত ও সামাজিকভাবে অটুট হয়ে ওঠে।
এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয়
সহ সম্পাদক ডা. রাখি মিত্র, জাতীয় মুখপাত্র বিবেক শুক্লা, সর্বভারতীয় কোষাধ্যক্ষ সুষ্মিতা মুখার্জি প্রমুখ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত