
পুরুলিয়া, ৩০ আগস্ট (হি. স.) : পুরুলিয়া জেলার আদ্রা রেল স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফট আটকে সৃষ্টি হলো চরম আতঙ্ক। ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মধ্যবর্তী ওই লিফটের ভেতরে শিশু ও মহিলা-সহ একাধিক যাত্রী দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে আটকে থাকেন। পরবর্তীতে রেল আধিকারিক ও রেল সুরক্ষা বলের ( আরপিএফ) তৎপরতায় আটকে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল আনুমানিক ৭টা নাগাদ আদ্রা স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লিফটটি হঠাৎ মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। সেই সময় লিফটের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে শিশু এবং একাধিক মহিলাও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে লিফটের দরজা না খোলায় আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং আদ্রা আরপিএফ-এর জওয়ানরা। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে যান রেলের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার-সহ একাধিক আধিকারিক।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন রেল প্রশাসন ও আরপিএফ-এর পক্ষ থেকে আটকে থাকা যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে লিফটের ভেতর জলের বোতল ও বিস্কুট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অবশেষে রেলের ইঞ্জিনিয়ার এবং আরপিএফ জওয়ানদের যৌথ ও দীর্ঘ প্রচেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর, সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ লিফটের দরজা খুলে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়।
উদ্ধার পাওয়া এক যাত্রী ঝর্ণা দাস নিজের ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা প্রকাশ করে জানান, সকাল সাতটা থেকে তাঁরা লিফটের ভেতরে আটকে ছিলেন। প্রথম দিকে প্রচণ্ড কষ্ট ও দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরবর্তীতে জল পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি মেলে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদ্রা স্টেশনে বেশ কিছুক্ষণ তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ট্রেনযাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ লিফট পরিষেবায় কেন এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ কেন সম্ভব হলো না, তা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি