
কলকাতা, ৬ আগস্ট (হি.স.): জাতীয় মহিলা কমিশনের (এনসিডাব্লিউ) চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর বৃহস্পতিবার কলকাতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন গত বছর মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ঘটে যাওয়া হিংসা এবং নারীদের যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে বলেন, সেখানকার দৃশ্য এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি আট দিন ঘুমাতে পারেননি।
এনসিডাব্লিউ-র পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘নারীর নেতৃত্বে বিকশিত বাংলা’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহাতকর বলেন, ২০২৫ সালে ওয়াকফ সংশোধন আইনের বিরোধিতার সময় মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় বিপুল সংখ্যক মহিলা ও পরিবারকে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মালদায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
তিনি জানান, কমিশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নারীদের যন্ত্রণা, ভয় ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। রাহাতকর বলেন, আমি এমন মহিলাদের দেখেছি যাঁদের কোলে সদ্যজাত সন্তান নিয়ে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। দেড় দিনের শিশুকে নিয়ে মাকে পলায়ন করতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। সেই সব দৃশ্য আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং আমি আট দিন ঘুমাতে পারিনি।
জাতীয় মহিলা কমিশন হিংসার ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফর করেছিল। কমিশনের প্রতিনিধিদল মুর্শিদাবাদ ও মালদার ত্রাণ শিবিরে প্রায় ৩৫০টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনে এবং বিচার পাওয়ার আশ্বাস দেয়।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।
রাহাতকর বলেন, মুর্শিদাবাদ ও মালদার অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে তাজা রয়েছে। তিনি নারীদের সুরক্ষা ও সম্মান সুনিশ্চিত করতে সমস্ত সংস্থাকে সংবেদনশীল হয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ হিংসা সম্পর্কিত জাতীয় মহিলা কমিশনের রিপোর্টেও দাবি করা হয়েছিল যে, হিংসার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সময়ে পুলিশের সাহায্য পাননি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মানুষের আস্থা দুর্বল হয়েছে। কমিশন তাদের রিপোর্টে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি সংবেদনশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি