
নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর (হি.স.): অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ঘোষিত “সংবিধান ও শরিয়ত সংরক্ষণ আন্দোলন”-এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-মন্ত্রী বিজয় শঙ্কর তিওয়ারি মঙ্গলবার বলেছেন, ভারত একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্র। এখানে সংবিধানই সর্বোচ্চ, শরিয়ত নয়। যে সমস্ত সংগঠনগুলো সংবিধানের দোহাই দিয়ে শরিয়ত আইনকে তার সমান্তরালে স্থাপন করে, তারা দেশের ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করছে।
বিজয় শঙ্কর তিওয়ারি সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়কে বলেন, ভারতের মুসলমানরা ভারতীয় নাগরিক। তারা সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত অধিকার ভোগ করেন। কিন্তু নাগরিকত্বের সঙ্গে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্যও যুক্ত থাকে। দেশের আইন মেনে চলা, জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ভাবনাকে অনুধাবন করাও সেই নাগরিকত্বেরই অংশ। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড বারবার এই চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে যে, মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বন্দে মাতরম নাকি তাদের ধর্মের ওপর আক্রমণ। এটি একটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর চিত্র। অবৈধ নির্মাণ, জবরদখল এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করা কোনও ধর্মের রক্ষক হতে পারে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। অবৈধ কাজকে বৈধ দাবি করে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করে বোর্ড প্রকৃতপক্ষে নিজের সম্প্রদায়ের নারীদের সমান অধিকারেরই বিরোধিতা করছে। বহুবিবাহ, অসম উত্তরাধিকার এবং পার্সোনাল ল-এর এমন কিছু বিধান যা সংবিধানের সাম্যের নীতির সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ। সেগুলিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ করার জেদ দেশের স্বার্থে নয়। তিন তালাক নিয়ে আদালত ও সংসদ যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছিল, তা ছিল ন্যায়ের পক্ষে। ইউসিসি সেই দিশারই ধারাবাহিকতা। ‘বন্দে মাতরম’ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের গান। দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা কোনও ধর্মের অপমান নয়। যারা জাতীয় গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারে না, তারা সংবিধান নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার হারায়।
বিজয় শঙ্কর তিওয়ারি সচেতন মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে ভয় না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ভারতে মুসলমানদের জীবন, সম্পত্তি এবং উপাসনালয়ের সুরক্ষা সংবিধানের মাধ্যমে হয়, শরিয়তের মাধ্যমে নয়। যে কট্টরপন্থী নেতারা সংবিধান ও শরিয়তকে এক করে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন, তারা পরিষ্কার করে বলুন— যদি দুটির মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়, তবে তারা কোনটি মেনে চলবেন? সংবিধান, নাকি শরিয়ত?
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে :
১. ভারতে কোনও সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইন সংবিধানের চেয়ে বড় হতে পারে না।
২. অভিন্ন দেওয়ানি বিধি জাতীয় ঐক্য এবং প্রকৃত সমতার দাবি।
৩. অবৈধ নির্মাণ এবং জবরদখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ধর্মীয় ভিত্তিতে বন্ধ করা যাবে না।
৪. ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা দেশপ্রেম, কোনও ধর্মের বিরোধিতা নয়।
৫. নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করে দেশকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
বিজয় শঙ্কর তিওয়ারি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় কারওর বৈধ ধর্মীয় আচরণের বিরোধী নয়। কিন্তু সংবিধানের ওপর শরিয়তকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা রাষ্ট্রবিরোধী। তিনি বলেন, সংবিধান মেনে নিন, আইন অনুসরণ করুন, রাষ্ট্রকে সম্মান করুন— এটিই প্রকৃত সুরক্ষা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ শান্তি, সংলাপ এবং সংবিধানের সর্বময় ক্ষমতার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে। কিন্তু সংবিধানকে দুর্বল করার যেকোনও অভিযানের বিরোধিতাও একই দৃঢ়তার সঙ্গে করবে। উক্ত বিষয়ে জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ