শিলচর–হাফলং পথে বাস বন্ধ, যাত্রী নিরাপত্তায় প্রশাসনের কড়া সিদ্ধান্ত
হাফলং (অসম), ১১ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু তার আগেই হাফলং–শিলচর সড়কপথে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিল ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন ও পরিবহণ বিভাগ। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বৃহ
শিলচর–হাফলং পথে বাস বন্ধ, যাত্রী নিরাপত্তায় প্রশাসনের কড়া সিদ্ধান্ত


হাফলং (অসম), ১১ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু তার আগেই হাফলং–শিলচর সড়কপথে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিল ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন ও পরিবহণ বিভাগ। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বৃহস্পতিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

​দীর্ঘদিন ধরে শিলচর–হাফলং সড়কপথে যাত্রী পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল বাস। পাহাড়ি এই পথে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের অন্তর্গত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বাস চলাচল অব্যাহত রাখলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ।

​প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্মাণকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট সড়কের দায়িত্ব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) হাতে তুলে দেবে। এরপর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী যান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হলে তবেই ওই পথে বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জেলা প্রশাসন।

​এদিকে, বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার শিলচর–হাফলং পথে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবহণ ব্যবসায়ীরা ডিমা হাসাওয়ের জেলা কমিশনার গায়ত্রী দেবীদাস হাইলিঙ্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চান এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

​জেলা কমিশনার তাঁদের জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তাই প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নির্মাণকাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় এই মুহূর্তে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাময়িকভাবে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

​তবে বাস মালিকদের জন্য কিছুটা আশার কথাও শুনিয়েছে প্রশাসন। জেলা কমিশনার জানিয়েছেন, সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শিলচর–হাফলং পথে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেই অনুমতি পুরোপুরি নির্ভর করবে সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়া এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পাওয়ার উপর।

​ফলে আপাতত শিলচর–হাফলং সড়কপথে বাসযাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একদিকে বহু প্রতীক্ষিত ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের কাজ শেষ হওয়ার দিকে এগোলেও, অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত শিলচর ও হাফলংয়ের মধ্যে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

​প্রশাসনের বক্তব্য, রাস্তা সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হবে না। তবে জেলা প্রশাসন যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করলেও ছোট ছোট যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande