
খড়গপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর (হি. স.): পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরের হাতিহালকা এলাকায় শনিবার সকালে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতের নাম শমশের বিশ্বাস (৩২)। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মতে, শনিবার সকালে শামশের তাঁর ভাগ্নে জাফরের সঙ্গে হাতিহালকার কদমতলা বাজারে চা খেতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন বিজেপি কর্মীও ছিলেন। চায়ের দোকানে সবাই কথা বলছিলেন। সেই সময় লাঠি ও রড হাতে একটি দল আচমকা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা প্রথমে শামশেরকে ঘিরে ফেলে এবং পরে তাঁকে চায়ের দোকান থেকে টেনে বের করে রাস্তায় নিয়ে আসে বলে অভিযোগ।
মামাকে বাঁচাতে জাফর এগিয়ে আসেন। বিজেপি কর্মীরাও তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের উপরও হামলা শুরু করে। এরপর তাঁরা ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানে বসে থাকা শমশেরকে আশপাশের ১৫-২০ জন ঘিরে ধরে মারধর করছে। কয়েকজনকে তাঁর দিকে পাথর ছুড়তে এবং কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। আশপাশের লোকজনকেও আতঙ্কে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
অভিযোগ, প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে শামশেরকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। তাঁকে একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শামশেরকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাতিহালকা ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, পুরনো ও নতুন দলের কর্মীদের মধ্যে বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে। খড়গপুর-৩ গ্রামীণ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সন্দীপ করণ বলেন, শামশের দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা নতুন বিজেপি কর্মী অথবা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক দীপঙ্কর দাস জানান, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ