বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
বাঁকুড়া, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : শনিবার শালতোড়ায় আয়োজিত এক জনসভা থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’—এই শিরোনামে আয়োজিত
বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের


বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের


বাঁকুড়া, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : শনিবার শালতোড়ায় আয়োজিত এক জনসভা থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’—এই শিরোনামে আয়োজিত রণসংকল্প সভা থেকে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শালতোড়া পুনর্দখলের বার্তা দেন।

সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তিনি দাবি করেন, এই বক্তব্য যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পাঠানো হোক। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিজেপি মানেই খাল কেটে কুমির আনা।”

তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। জঙ্গলমহল এলাকা আজ মাওবাদীশূন্য। পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা উপকৃত হচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে বাঁকুড়া জেলায় বিপুল উন্নয়ন হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খাদান শ্রমিকদের প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি খাদান চালাতে অন্তত এক হেক্টর জমি এবং একাধিক সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। আইনি পথে খাদান চালাতে গেলে এককালীন ৩০-৩২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি রাঁচিতে অবস্থিত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব মাইনসের দফতরের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে ঘুষ দিয়ে অনুমোদন নিতে হচ্ছে—আপনাদের লজ্জা করে না?”

এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, বাংলায় কথা বললেই বাঙালিদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। ভোট দেওয়ার জন্য সার্টিফিকেট চাইছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এভাবে চললে ভবিষ্যতে জল খেতেও সার্টিফিকেট চাইবে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উপর আঘাত নামবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় ১২-০ ফল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তিনি বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার পরাজিত হয়েছেন, অর্থাৎ ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে এসেছে। বাকি ছ’টি কেন্দ্রও জিততে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়া কেন্দ্র বিজেপির দখলে গেলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেখানে ফের এগিয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফেরার গতি আরও জোরদার করতেই শালতোড়ায় এই রণসংকল্প সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনের সভায় শালতোড়া এলাকার দু’জন বিজেপি নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে বিরোধীশূন্য করার আহ্বান জানান।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande