অসমে ১.৫ লক্ষ সরকারি চাকরির মাইলফলক অতিক্রম সরকারের, আরও ৬,৩৪৭ জনকে নিয়োগপত্র মুখ্যমন্ত্রীর
গুয়াহাটি, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এক লক্ষ সরকারি চাকরি প্রদান। সংখ্যার নিরিখি প্ৰদত্ত প্ৰতিশ্ৰুতি আতিক্রম করেছে হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন অসম সরকার। আজ নতুন আরও ৬,৩৪৭ জনকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পর গত পাঁচ বছরে অসম সরকারে
৬,৩৪৭ জনকে নিয়োগপত্র প্ৰদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্ৰী


নিয়োগ-প্ৰাপকদের খণ্ডচিত্ৰ


গুয়াহাটি, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এক লক্ষ সরকারি চাকরি প্রদান। সংখ্যার নিরিখি প্ৰদত্ত প্ৰতিশ্ৰুতি আতিক্রম করেছে হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন অসম সরকার। আজ নতুন আরও ৬,৩৪৭ জনকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পর গত পাঁচ বছরে অসম সরকারের বিভিন্ন বিভাগে চাকরি পেয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ২০০ জন।

আজ শনিবার সরুসজাইয়ে অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ‘আসাম ডাইরেক্ট রিক্রুটমেন্ট এগজামিনেশন’ (এডিআরই)-এ গ্রেড-থ্রি পদে উত্তীর্ণ ৬,৩৪৭ জন প্ৰাৰ্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সমাবেশে অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল থেকে রাজ্য সরকার ১.৫ লক্ষেরও বেশি সরকারি চাকরি প্রদান করে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এটি গত (২০২১) বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রদত্ত একটি প্রধান প্রতিশ্রুতির পুনরায় বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ২০০ জনকে সরকারি চাকরি দিয়েছি। সামনে আরও আসছে।’

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. শৰ্মা বলেন, প্ৰথমদিকে এডিআরই নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ছিল। এই প্ৰক্ৰিয়ায় স্বচ্ছতাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন দফতরের আলাদা আলাদা পরীক্ষার গ্ৰহণের ফলে পরীক্ষার তারিখে ওভারল্যাপ হতো, দুর্নীতির অভিযোগ উঠত এবং দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলত। যার ফলে বিভিন্ন দফতরে কর্মচারীর ঘাটতি দেখা দিত।

ওই সমস্যাগুলি মোকাবিলার জন্য সরকার বিধানসভায় বিল পাস করে নতুন আইন প্রণয়ন করে একক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থার ফলে এখন গ্রেড-৩ এবং গ্রেড-৪ পদে নিয়োগের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ২৮টি জেলায় একই দিনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৯.১২ লক্ষেরও বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওই দিন ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে আদালতে কোনও মামলাই দায়ের হয় না।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি দফতরে আগত নাগরিকদের সময়মতো ও দক্ষ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, সরকারি কর্মচারীদের পারস্পরিক বদলির সুবিধার্থে ‘স্বাগত সতীৰ্থ’ নামের এক পোর্টাল আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চালু হবে। এই পোর্টাল বছরে দুবার, ফেব্রুয়ারি এবং মে মাসে খোলা হবে। খুশি ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন বছরে চাকরি যাঁরা পেয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রের সমহারে মহার্ঘ্যভাতা পাবেন।

মেধার ভিত্তিতে সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অসমের যুবসমাজের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির আরেকটি পথ হিসেবে সরকার উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করে চলেছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গতকাল শুক্রবার এডিআরই-উত্তীর্ণ গ্রেড-ফোর পদে ৪,৩৬৯ জন প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র বিতরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande