


দ্বিতীয় উত্তর-পূর্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কনক্লেভ উদ্বোধন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদের
গুয়াহাটি, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : অসমে পরিকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উদ্যোগ স্বাস্থ্য কাঠামোকেও মজবুত করেছে, দ্বিতীয় উত্তর-পূর্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কনক্লেভের উদ্বোধন করে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।
আজ শনিবার গুয়াহাটির একটি হোটেলে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথকেয়ার প্রোভাইডার্স ইন্ডিয়া’ (এএইচপিআই), নর্থ-ইস্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থিতিশীল উত্তর-পূর্বের জন্য রোগীসেবা ও পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ’ শীৰ্ষক কনক্লেভের উদ্বোধন করেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।
উত্তর-পূর্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কনক্লেভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিবেদিত এমন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে। একজন সুস্থ মানুষই একটি সুস্থ সমাজের ভিত গড়েন এবং সেই সমাজ থেকে গড়ে ওঠে একটি সুস্থ রাষ্ট্র।
রাজ্যপাল জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানব-মর্যাদা রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর মতে, একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা অবশ্যই বিশ্বাস ও সহমর্মিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে হবে এবং সকল নাগরিকের জন্য সময়োচিত, সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশেষ চ্যালেঞ্জগুলি যেমন দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন রাজ্যপাল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি কনক্লেভটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন, কারণ এটি বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাগত উৎকর্ষকে একত্রিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ধৃতি দিয়ে রাজ্যপাল আচার্য বলেন, সুস্থ নাগরিকরাই একটি আত্মনির্ভর ও ক্ষমতাবান জাতির ভিত্তি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর “সুস্থ ভারত, সমৃদ্ধ ভারত” ভাবনা প্রতিরোধমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেয়। আয়ুষ্মান ভারত, হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন এবং ই-সংজীবনীর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন পরিষেবার মতো উদ্যোগগুলি, বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
রাজ্যপাল বলেন, এ-জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অসম সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ব্যাপক পরিকাঠামোগত ও মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আয়ুষ্মান অসম ও মুখ্যমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনার মতো প্রকল্প, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ, জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধার উন্নয়ন, সব মিলিয়ে রাজ্যে স্বাস্থ্যখাতের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে রাজ্যপাল বলেন, রোগীসেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন - এই দুটি স্বাস্থ্যখাতের শক্তিশালী ও পরস্পর-পরিপূরক স্তম্ভ। তাঁর মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, নৈতিক অনুশীলন ও মানবিক সংবেদনশীলতার সহায়তা ছাড়া পরিকাঠামো প্রকৃতার্থে অর্থবহ হয়ে ওঠে না। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, গুণগত মান বজায় রাখা এবং সহানুভূতির সঙ্গে উদ্ভাবনের ভারসাম্য রক্ষায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
প্রাচীন ভারতীয় মন্ত্র “সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ, সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ” উদ্ধৃত করে রাজ্যপাল আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত নিষ্ঠা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুস্থ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সম্মেলনে মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান স্বাস্থ্যখাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং অঞ্চলে রোগীসেবা ও স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বহু বিশিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ছিলেন এএইচপিআই নর্থ-ইস্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি নীলাভ মজুমদার, উপ-মহাপরিচালক ড. সুনীল খেত্রপাল, সচিব রোহিত উপাধ্যায়, আয়োজক চেয়ারম্যান ড. জেপি শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস