জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি লিখলেন মমতা
কলকাতা, ১০ জানুয়ারি (হি.স.): দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, এসআইআরের আড়ালে বাংলায় যা ঘটছে, তা সাধারণ নাগরিকদের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ১০ জানুয়ারি (হি.স.): দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, এসআইআরের আড়ালে বাংলায় যা ঘটছে, তা সাধারণ নাগরিকদের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উপর এক উদ্বেগজনক আক্রমণ। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য তৈরি একটি প্রক্রিয়া ভয় দেখানোর এবং নাম বাদ দেওয়ার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যান্ত্রিক ভাবে, সহানুভূতি ছাড়াই, বুদ্ধি প্রয়োগ ছাড়াই এবং মানবিক বাস্তবতার প্রতি কোনও সংবেদনশীলতা ছাড়াই শুনানি পরিচালিত হচ্ছে। এর পরিণতি ভয়াবহ হয়েছে। ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, অনেকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সবই অপরিকল্পিত, জোর খাটিয়ে ভয়, আতঙ্ক এবং উদ্বেগ তৈরি করা হচ্ছে। যখন অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের মতো নোবেলজয়ী, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, সন্ন্যাসী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিজেদের নাগরিকত্ব 'প্রমাণ' করার জন্য ডাকা হয়, তখন সেটি নিছক প্রাতিষ্ঠানিক অহঙ্কারকেই প্রদর্শন করে। যদি এই ধরনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের রেহাই না দেওয়া হয়, তাহলে দরিদ্র, বয়স্ক, পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর এবং বিয়ের পরে পদবি বদলানো মহিলাদের দুর্দশার কথা কল্পনা করুন। মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ভূমিকা থেকে বিপজ্জনক ভাবে সরে যাচ্ছে। কিন্তু, ভয়ের দ্বারা গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা যায় না। জোর করে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা যায় না। সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ প্রভুর মতো আচরণ করে সম্মান অর্জন করে না। আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে এই উদ্বেগগুলো তুলে ধরেছি। এখনও সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। খুব বেশি দেরি হয়নি। আমি আশা করি, জ্ঞানের জয় হবে। আমি আশা করি, নাগরিকদের যন্ত্রণার অবসান হবে। আশা করি, অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আগেই আমাদের গণতন্ত্রের পবিত্রতা পুনরুদ্ধার করা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande