
মালদা, ১০ জানুয়ারি (হি. স.) : রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারা ফের একবার প্রকাশ্যে এল। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশালদহ বাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক প্রসূতিকে দীর্ঘ আট ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাসপাতাল চত্বর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (বিএমওএইচ) -কে ঘিরে ধরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত শুক্রবার এক গর্ভবতী মহিলাকে প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, সামান্য একটি ‘ঘোষণাপত্র’ বা ডিক্লেয়ারেশন জমা দিতে না পারার অজুহাতে ওই মহিলার চিকিৎসা শুরুই করা হয়নি। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই প্রসূতিকে প্রায় আট ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস কুমার মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত রোগীর আত্মীয় ও গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে , বিএমওএইচ নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না এবং অধিকাংশ সময় সামসিতে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখেন।
বিশাল গ্রামীণ এলাকার নির্ভরশীলতা থাকলেও এই কেন্দ্রে প্রায়ই মাত্র একজন চিকিৎসক থাকেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ইনজেকশনের জন্য নার্সদের দীর্ঘ সময় আধিকারিকের ফোনের অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতাল সংলগ্ন বেসরকারি ওষুধের দোকান ও ক্লিনিকগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চালানো হচ্ছে।
এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাপস বাবু সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কোনো সদুত্তর না দিয়েই দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী ও নেতাদের ছত্রছায়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে দালাল রাজ ও চরম অরাজকতা চলছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, যদি কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে প্রশাসন অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সাধারণ মানুষের দাবি, গ্রামীণ এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি