
নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এমন এক নাম, যিনি ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও সাদাসিধে জীবন ও নৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন। স্বাধীন ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৪–১৯৬৬) হিসেবে তিনি দেশের জন্য রেখে গিয়েছেন আত্মনির্ভরতা, শৃঙ্খলা ও দেশনিষ্ঠ নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রবিবার লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির একাধিক নেতা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এদিন সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ স্লোগানের মাধ্যমে শাস্ত্রীজি সংকটকালে দেশকে আত্মনির্ভরতা ও নিরাপত্তার পথে পরিচালিত করেছিলেন। তাঁর সাদাসিধে জীবন আজও অনুপ্রেরণা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি বলেন, দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতীক ছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভিও শ্রদ্ধা জানান।অন্যান্য নেতারাও শাস্ত্রীর সততা, নৈতিকতা ও দেশের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯০৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তর প্রদেশে জন্ম নেওয়া লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ছোটবেলা থেকেই সততা ও সংযমে অভ্যস্ত ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এমন এক সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেন, যখন খাদ্য সংকট ও সীমান্ত সুরক্ষা—দু’টিই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
১৯৬৫ সালের ভারত–পাক যুদ্ধের সময় শাস্ত্রীজি দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে উচ্চারণ করেন ঐতিহাসিক স্লোগান—‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’। এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সৈনিক ও কৃষকের গুরুত্বকে একসূত্রে বেঁধে আত্মনির্ভর ভারতের ভিত মজবুত করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি যেমন দৃঢ় হয়, তেমনই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও শাস্ত্রীজির জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার থেকে তিনি সর্বদা দূরে ছিলেন। নৈতিকতা, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
১৯৬৬ সালে তাশখন্দ চুক্তির পর তাশখন্দেই তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ দেশবাসীকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করে। পরবর্তীকালে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
আজও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জীবন ও আদর্শ ভারতীয় রাজনীতিতে সাদাসিধে নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পথ দেখিয়ে চলেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য