
আগরতলা, ৮ জানুয়ারি (হি.স.) : পিএম ডিভাইন প্রকল্পের আওতায় ২৭.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিপুরায় একটি সমন্বিত আগর উড ক্লাস্টার গড়ে তুলছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নার্সারি, প্ল্যান্টেশন, ডিস্টিলেশন সুবিধা এবং আগর শিল্পে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ক্লাস্টারটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের সাত হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন, বিশেষত মহিলা ও যুব সমাজ।
বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আগর উড কনক্লেভ ও ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা শহরের নামকরণের সঙ্গে আগর গাছের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। একসময় এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আগর গাছ ছিল এবং ত্রিপুরার রাজ পরিবার এই গাছের নাম অনুসারেই আগরতলার নামকরণ করেছিলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন সময়ে ত্রিপুরার আগর চাষ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ আগর গাছ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে রয়েছে এবং ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আগর গাছ উৎপাদক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি আগর গাছ রয়েছে। ধর্মনগরের কদমতলায় আগর গাছের বাজার তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে, যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতারা সরাসরি বেচাকেনা করতে পারবেন।
তিনি জানান, উত্তর-পূর্ব কাউন্সিলের ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে একটি সিঙ্গেল উইন্ডো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরার আবহাওয়া আগর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রাজ্যের মানুষদের আগর চাষে আরও উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আগর শিল্প স্থাপনে রাজ্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের ফরেন ট্রেড বিভাগের ডিজি শ্রীভরানি, পিএম ডিভাইন ও নেরামেক-এর যুগ্ম সচিব অংশুমান দে, পিসিসিএফ আর কে শ্যামল এবং ভারত সরকারের পরিবেশ ও বন দফতরের বিশেষ সচিব সুশীল কুমার আশস্তী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ঈশান্তর শোভাপন্ডিত।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ