
দেহরাদূন, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তরাখণ্ডের পাউড়ি জেলার নাগদেব এলাকার ধান্দারি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করা মানুষখেকো চিতাবাঘকে নিধন করা হয়েছে। বিগত নভেম্বর মাসে এক মহিলার উপর প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই এলাকাটিকে মানব–বন্যপ্রাণী সংঘাতের সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
শুক্রবার বিভাগীয় বনাধিকারিক জানান, জেলা প্রশাসন ও বনদফতরের যৌথ উদ্যোগে চিতাবাঘটিকে নিরাপদে ধরার জন্য পাঁচটি খাঁচা, ১৫টি ট্র্যাপ ক্যামেরা, চারটি লাইভ সোলার সিসি ক্যামেরা বসানো হয় এবং পায়ের ছাপের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। ট্র্যাঙ্কুলাইজেশনের জন্য পাউড়ি, রুদ্রপ্রয়াগ বন বিভাগ এবং রাজাজি অভয়ারণ্যের বিশেষজ্ঞ দলকেও যুক্ত করা হয়।
তবে সব বিকল্প প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবং চিতাবাঘটির নিয়মিত চলাচলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ ধান্দারি গ্রামে চিহ্নিত চিতাবাঘটিকে গুলি করে নিধন করা হয়। পরে পশু চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে মৃত চিতাবাঘটির ময়নাতদন্ত করা হয়। এদিন বনদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিহত চিতাবাঘটি পুরুষ এবং তার আনুমানিক বয়স ছিল প্রায় ১০ বছর।
জেলা শাসক জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বনদফতর ও প্রশাসনের তরফে সমস্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এটি শেষ উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মানব–বন্যপ্রাণী সংঘাত রোধে নজরদারি, দ্রুত তথ্য আদান–প্রদান ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ধান্দারি গ্রামের বাসিন্দা ভগবান দেবী ঘাস কাটার সময় চিতাবাঘের হামলায় গুরুতর আহত হন। এরপর থেকেই এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা অভিযান চালানো হচ্ছিল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য