
কলকাতা, ৯ জানুয়ারি (হি স): “পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। একের পর এক নিন্দনীয় ঘটনা ঘটছে।” শুক্রবার কলকাতায় বিজেপি-র দলীয় অফিসে এই অভিযোগ করেন দলের সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক দুর্নীতির কেলেঙ্কারি—কয়লা পাচার, গবাদি পশু পাচার, রেশন দুর্নীতি, বগটুই হত্যাকাণ্ড, হাঁসখালি ধর্ষণ কাণ্ড, সন্দেশখালি-সহ একাধিক ঘটনা—এই সব কিছুর পিছনে একই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ছাপ স্পষ্ট। গতকালের আইপ্যাকের অফিসে এবং তার পরিচালকের বাড়িতে তদন্তকারী ইডি-র কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা সেই ব্যবস্থার আরেকটি প্রকাশ্য উদাহরণ।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এই আচরণ শুধু নিন্দনীয় নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। একজন মুখ্যমন্ত্রী যিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিজেপি এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করে এবং দেশের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।
তিনি বলেন, ঘটনাটি দণ্ডনীয় অপরাধের আওতাভুক্ত। দুর্নীতির মামলায় তদন্তে হস্তক্ষেপ করা, নথি লোপাট করা এবং তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া আইনত গুরুতর অপরাধ। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—মুখ্যমন্ত্রীও নয়। আদালতের নজরে বিষয়টি এসেছে এবং আইন আইনের পথেই চলবে।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এই আচরণ প্রমাণ করে যে তদন্তের বিষয়বস্তুর সঙ্গে শাসক দলের এবং মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ওই কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে শাসক দলের কোনও সম্পর্ক না থাকে, তবে মুখ্যমন্ত্রীর এতটা উদ্বিগ্ন হয়ে তদন্তে বাধা দেওয়ার প্রয়োজন কেন পড়ল।
তিনি অতীতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, সারদা কেলেঙ্কারিতে রাজীব কুমারের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না, সন্দেশখালিতে অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা—এই সবই একই প্রবণতার অংশ। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে কোনও দুর্নীতির মামলায় সিবিআই বা ইডি তদন্ত শুরু হলেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত