
কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : এক শতাব্দী আগে ১৯২৪ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু যখন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক ছিলেন, তখন তিনি শহরের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই সে সময় কর্পোরেশনের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। কিন্তু প্রায় ১০২ বছর পর বর্তমান চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলকাতা নগর নিগমের স্কুলগুলিতে একদিকে যেমন পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে, তেমনই শিক্ষা দফতরের বাজেটেও কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে যে, কোথাও শিক্ষক থাকলেও পড়ুয়া নেই, আবার কোথাও পড়ুয়া থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। এই অসামঞ্জস্য ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পুরসভার পেশ করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে শিক্ষা দফতরের জন্য ৫৯.৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত অর্থবর্ষে ছিল ৫৯.৭৮ কোটি টাকা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গত বছর বরাদ্দ হওয়া ৫৯.৭৮ কোটি টাকার সবটা খরচ করা সম্ভব হয়নি; খরচ হয়েছে মাত্র ৪৪.৬৮ কোটি টাকা। এক সময় কর্পোরেশনের অধীনে স্কুলের সংখ্যা ২৭২টি থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৩টিতে। এর মধ্যে বর্তমানে ২১৭টি স্কুল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে ৬৭টি ইংরেজি মাধ্যম, ৭০টি বাংলা মাধ্যম, ৩৮টি হিন্দি মাধ্যম, ৪১টি উর্দু মাধ্যম এবং একটি ওড়িয়া মাধ্যম স্কুল। এছাড়া ৬৫টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রও চালু আছে। বর্তমানে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজারে এবং শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন, যার মধ্যে ৫০০ জন স্থায়ী এবং ১০০ জন অস্থায়ী।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে ২৬টি স্কুলকে ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সাংসদ, বিধায়ক ও বিভিন্ন সংস্থার সিএসআর তহবিলের অর্থে এই স্কুলগুলিতে স্মার্ট টিভি, কম্পিউটার, স্পিকার ও ওয়েবক্যামের মতো আধুনিক সরঞ্জাম বসানো হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বহু ক্ষেত্রে এই পরিকাঠামো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ছে। যদিও মেয়র পারিষদ (শিক্ষা দফতর) সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন যে, শিক্ষার মান বাড়াতে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের নিয়মিত মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষামহলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র পরিকাঠামো নয়, পড়ুয়া টানতে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নেতাজীর স্মৃতিবিজড়িত এই স্কুলগুলি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত